বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সবার জন্য টিকা এবং সবার জন্য ঔষধ (এমভিডিএ) শীর্ষক প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে বান্দরবানের আলীকদমে ম্যালেরিয়া নির্মূল গবেষণা দলের এক অবহিতকরণ ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার ( ০১ এপ্রিল ২০২৪ইং) সন্ধ্যা ৭ঘটিকার সময় আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নে রুপমুহুরী রিসোর্টের সভা কক্ষে আলীকদম উপজেলা কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে ম্যালেরিয়া নির্মূল গবেষণা টিমের মতবিনিময় ও অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময়, বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন (ড:) মোঃ মাহবুবুর রহমান এর সভাপতিত্বে, আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ডা:) মোঃ মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় এই অবহিতকরণ সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রধান গবেষক, সাবেক মহাপরিচালক, অধ্যাপক মোঃ আবুল ফয়েজ।
২০৩০ সাল নাগাদ ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে সারা দেশের মধ্যে বান্দরবানে লামা-আলীকদম উপজেলায় ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। এজন্য বর্তমান চলমান সেবা পাশাপাশি ম্যালেরিয়া টিকা ও ঔষধ প্রয়োগ হতে পারে যুগোপযোগী পদক্ষেপ। সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে ম্যালেরিয়া নির্মূলের নতুন কার্যকারিতা নিয়ে একটি গবেষণা শুরু করেছে বান্দরবানে।
প্রেস ব্রিফিংএ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মোঃ আবুল ফয়েজ এসময় বক্তব্যে তিনি বলেন, চলমান সেবার মধ্যে মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য কীটনাশকযুক্ত মশারি এবং অন্যান্য চলমান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বাড়ির কাছের স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে দ্রুত ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয় করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীকে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেয়া।
এই গবেষণায় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত ম্যালেরিয়ার টিকা ব্যবহার করা হবে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ( who) অনুমোদিত এই টিকা ইতিমধ্যে ৭৭% উচ্চ কার্যক্ষমতা আছে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এটি ম্যালেরিয়ার জন্য উদ্ভাবিত ২য় টিকা এবং উৎপাদন করেছে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট। গবেষণাটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বান্দরবান জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১০০টি পাড়ার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নির্বাচিত করা হবে এবং ১০০ গ্রামের ১০হাজার মানুষকে দৈবচয়নের মাধ্যমে সমানভাবে মোট চারটি ক্লাস্টার বা গ্রুপে ভাগ করা হবে।
গবেষণাটিতে নির্বাচিত ১০০টি পাড়ায় বসবাসরত ছয় মাসের অধিক বয়সী সকল অধিবাসীকে গবেষণার বিষয়ে অবহিত করে সম্মতি পাওয়া সাপেক্ষে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য সরবরাহকৃত ম্যালেরিয়ার টিকা, ঔষধ ও চলমান সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। গবেষণা চলাকালীন যে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়া যাবে।
তবে গর্ভবতী মা ও এক বছরের মধ্যে গর্ভধারণের পরিকল্পনা করেছেন এমন কেউ, বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মা, ম্যালেরিয়ার অন্য টিকা গ্রহণ করেছেন কিংবা ম্যালেরিয়ার জন্য গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হিসেবে টিকা পাচ্ছেন এমন কেউ, চিকিৎসা পাচ্ছেন এমন মারাত্মক অসুস্থ কেউ, গবেষণার ঔষধ বা টিকার পূর্ববর্তী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস আছে এমন কাউকে এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও প্রধান গবেষক অধ্যাপক (ডা:) মো. আবুল ফয়েজ আরো জানান, এই গবেষণায় জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি, সিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্বাবধানে ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ব্র্যাক, সিআইপিআরবি, মাহিদল অক্সফোর্ড রিসার্চ ইউনিট, ব্যাংকক, থাইল্যান্ড ও জেনার ইনস্টিটিউট, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সম্পৃক্ত রয়েছে।
গবেষণা শেষে আগামী বছর থেকে লামা ও আলীকদম উপজেলায় উদ্ভাবিত ম্যালেরিয়ার এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
উল্লেখ যে, ২০২৩ইং সালে ১৬,৫৬৭ জন ম্যালেরিয়া রুগীর মধ্যে ১০,০০১ (৬০.৪%) জন বান্দরবান জেলায়, যার মধ্যে ২৪২২ জন লামা এবং ২৬৩২ জন আলীকদম উপজেলায়। ম্যালেরিয়ার রোগের সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেখা যায় বর্ষার মৌসুমে।
জমির উদ্দিন
বিশেষ প্রতিনিধি
মোবাইল নং -
০২/০৪/২০২৪ইং