
সোহেল রানা, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীর অধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের বার্তা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কিন্তু কুড়িগ্রামের উলিপুরে এ দিবসের একটি আয়োজনে নারীদের যথাযথ অগ্রাধিকার না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আয়োজনে পুরুষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেশি থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, অনুষ্ঠানে সঞ্চালনায় ছিলেন জিয়ন রায়হান, আবৃত্তি প্রশিক্ষক (KKCP)। সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উলিপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার নার্গিস তোকদার, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান বুলবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ, তথ্যসেবা কর্মকর্তা মনিরা খাতুন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ শরিফুল ইসলাম মোহাম্মদ, ব্র্যাক উলিপুরের এরিয়া ম্যানেজার মোঃ ফখরুল আলম ভূঁইয়া এবং ল্যাম্প হাসপাতালের টেকনিক্যাল অফিসার মোহাম্মদ ইলিয়াস আলী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় মহিলা সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শংকর কুমার দেব শর্মা।
সাধারণত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানগুলোতে নারী নেত্রী ও জনপ্রতিনিধি (মহিলা ইউপি সদস্য, মহিলা কাউন্সিলর, নারী রাজনীতিবিদ), নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, নারী উদ্যোক্তা ও কর্মজীবী নারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নারী সদস্য, গ্রামের সাধারণ নারী, গৃহিণী ও শ্রমজীবী নারী এবং নারী অধিকার কর্মী বা সমাজকর্মীদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ধরনের অনুষ্ঠানে সাধারণত আলোচনা সভা, র্যালি, সেমিনার, সফল নারীদের সম্মাননা প্রদান ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন করা হয়। পুরুষরাও এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন, তবে মূল গুরুত্ব ও নেতৃত্বে নারীদের রাখা হয়—এটাই আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে উলিপুরের এই আয়োজনে নারীদের তুলনায় পুরুষ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতি বেশি থাকায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নারী দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে নারীদের সামনে এনে তাদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মহিম আল মোস্তাকুর জানান, আজকের প্রোগ্রামে নারীদের থেকে পুরুষদের উপস্থিতি বেশি ছিলো। আগামীতে নারীদের ব্যাপক উপস্থিত নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান বলেন আজকের অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আয়োজন করেছে। আমি কেবল সভাপতির দায়িত্বে উপস্থিত ছিলেন। এ প্রোগ্রামের বিষয় আমরা জানা নেই।
তিনি আরও বলেন, নারী দিবসে শুধুমাত্র নারীরাই নয়, পুরুষদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকে এবং নারীরা পুরুষদের থেকে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হন।
সচেতন মহল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানগুলোতে নারীদের অধিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।