1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
March 19, 2026, 12:43 pm
Title :
রূপসায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৯০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ।  ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দিলেন লাবনী সিদ্দিকী  মির্জাপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল যুবদল নেতা ইউসুফের মরদেহ: কুমিল্লার মুরাদনগরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমান-এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় শ্রীকাইল সরকারি কলেজে ইফতার মাহফিল ।  লালমনিরহাটে বড়ুয়া খাল পুনঃখননের শুভ উদ্বোধন করেন আসাদুল হাবিব দুলু এমপি ‎ কানাইয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে দোয়া ও ইফতার মাহফিল  পৌর কাউন্সিলর কল্যাণ পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত শতাধিক ঘরবাড়ি । উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল গ্রেফতার

একজন সাদা মনের আমলা বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান  

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, May 18, 2023,
  • 507 Time View

 

রোস্তম মল্লিক

ত্রিশ বছরের সাংবাদিক জীবন আমার। পথচলার এই সংগ্রামী সময়ে পেশাগত কাজের নিমিত্তে অনেক বিসিএস ক্যাডার আমলার সাথে ওঠাবসা হয়েছে। খুব কাছ থেকে দেখেছি তাদের চাল চলন, জীবন যাপন ও দৈনন্দিন কার্যাবলী। এই সময়ে অনেকের স্নেহ ভালোবাসা পেয়েছি। আবার অনেকের রক্তচক্ষুর শিকার হয়েছি। সাংবাদিকদের সাথে আমলাদের বরাবরাই ভালো সম্পর্ক থাকে। তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যম দিয়ে একটা হ্রৃদ্রতামুলক সম্পর্ক গড়ে ওঠে আপনা আপনিতেই। কেউ কেউ আবার বন্ধুর মত সম্পর্কের গভীরে চলে যান। সেই সম্পর্কের মধ্যে থাকে না কোন পেশাদারিত্ব। আবার কিছু কিছু আমলার সাথে দা- কুড়াল সম্পর্কেরও সৃষ্টি হয় সেটা অবশ্যই পেশাদারিত্বের কারণে।

আমাদের মধ্যে একটা ধারনা আছে যে, আমলা মানেই দুর্নীতিবাজ। আমলা মানেই রাশভারি একটা বদমেজাজী মানুষ। আমলা মানেই কর্তৃত্ববাদী। আমলা মানেই বিদেশে বাড়ী,গাড়ী,অনেক ভু-সম্পত্তির মালিক। আমলা মানেই শোষক। আমলা মানেই নির্দয় শাসক। কিন্তু আসলেই কি তাই? ঢালাওভাবে দোষ দেবার আগে আমরা কি একবার মুহা: মাহবুবর রহমানের মত একজন আমলার কথা ভাবতে পারি না? আমরা কি একবার তার সাথে কথা বলতে পারি না? আমরা কি একবার মুহা: মাহবুবর রহমানের জীবনপাতা পড়ে দেখতে পারি না? আমার মনে হয় সেটি করা একান্ত প্রয়োজন। আমাদের সমাজে একটা প্রবাদ আছে যে, গুনীর কদর না করলে সেদেশে গুনীর জন্ম হয়না। আমার মনে হয় সেটি দিন দিন ভুলেই যাচ্ছি।

মুহা: মাহবুবর রহমান আমার কেউ নন। না আত্মীয়,না পাড়া প্রতিবেশি, না রক্তের সম্পর্কীত কেউ। কিন্তু তিনি আমার দেখা একজন সাদা মনের মানুষ। আমলার বিচারে তিনি যে কোন সচেতন ও শুদ্ধ মানুষের কুর্ণিশ পাবার যোগ্য। তার আচার,ব্যবহার, জীবন যাপন, সরকারী দায়িত্ব পালনের নিয়মাবর্ত্তুতা, পোষাক-–আষাক, বিনয়ী আচরণ সত্যিই অতুলনীয়। আমি মাত্র কিছুদিনের ব্যবহারেই তার বিগ ফ্যান বনে গেছি। আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে,একজন সরকারী আমলা এতটা বিনয়ী হতে পারেন? কিভাবে সম্ভব সেটা। আর সেটি বিশ্লেষন করতে গিয়েই জানতে পেরেছি তার বংশ মর্যাদার কথা। তার নীতি, আদর্শ ও সততার কথা। জানতে পেরেছি তার নির্লোভ চরিত্রের কথা। নৈতিক অধ;পতনের চলমান সিড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি কিভাবে সততা, নীতি ও আদর্শে নিজেকে অবিচল রেখেছেন সেটাই আমাকে ভাবিত করে। মনে হয় আহা এমন শুদ্ধ মানুষ যদি দেশের প্রতিটি সরকারী সেক্টরে থাকতো,তাহলে দেশটা বুঝি অনেক আগেই সোনার বাংলায় পরিণত হতো।

তিনি পরিশুদ্ধ কবিতার মানুষও বটে। রহমান মাহবুব নামে কবিতা লেখেন। আমি তার যে ক‘টি কবিতা পাঠ করেছি তাতে মনে হয়েছে তিনি একজন জাত কবি। তার লেখনির মাঝে সমাজের অসংগতিগুলো স্পষ্টভাবে পরিস্ফুাটত হয়। তিনি মনের দ্রোহকে কবিতায় প্রকাশ করেন। যেহেতু তিনি একজন সরকারী আমলা সেহেতু অনেক সতর্কতার সাথে কবিতার চাষ করতে হয়। সেখানেও তিনি সফল হয়েছেন নির্দ্বিধায়।

মুহঃ মাহবুবর রহমান বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-১) মর্যাদায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তর্মরত আছেন। গত ০৭ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে তিনি এ পদে যোগদান করেন। বিসিকে যোগদানের পূর্বে তিনি সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুহঃ মাহবুবর রহমান ২৫ জানুয়ারি ১৯৬৫ সালে যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মৌলভী আজাহার উদ্দীন আহম্মদ পেশায় একজন শিক্ষক ও স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তাঁর রত্নগর্ভা মা মরহুম বেগম আনোয়ারা খাতুন একজন সুগৃহিণী ছিলেন। তাঁর সকল ভাই-বোন নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফল এবং সুপ্রতিষ্ঠিত।

মুহঃ মাহবুবর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ হতে স্মাতক (সম্মান) ও স্মাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর স্কুল জীবন কেটেছে যশোর জিলা স্কুলে। যশোর সরকারি এম এম কলেজ থেকে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন।

মুহঃ মাহবুবর রহমান বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একাদশ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তিনি ০১ এপ্রিল ১৯৯৩ সালে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মাদারীপুর যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে মাঠ প্রশাসনে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৪-২০১৭ সাল পর্যন্ত মাগুরা জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর কিছুদিন পরই শুরু হয় কোভিড-১৯ অতিমারী বিভীষিকা। এই করোনা অতিমারীর সময়ে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে মানবিক দায়িত্ব পালন করেন ।

পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য তিনি চীন, জাপান, ভারত, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, গ্রীসসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি এক কন্যা ও পুত্র সন্তানের জনক এবং তাঁর সহধর্মিণী একজন গৃহিণী।

আমি এই সাদা মনের মহতপ্রান মানুষটির সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন ও সার্বিক মংগল কামনা করছি। একই সাথে দেশ ও জাতির কল্যাণে তিনি যেন আমৃত্যু অবদান রাখতে পারেন সেই দোয়া করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট