মো. হাইউল উদ্দিন খান, গাজীপুর প্রতিনিধি
গভীর শ্রদ্ধা, আবেগ আর আত্মমর্যাদার অঙ্গীকারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালন করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মরণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয় এক গম্ভীর, শোকাভিভূত ও অনুপ্রেরণাময় পরিবেশ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক প্রভাতফেরি বের হয়। প্রভাতফেরিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
পরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতিসত্তার ভিত রচনা করেছে। ভাষা আন্দোলনের সেই আত্মত্যাগই স্বাধীনতার পথকে সুগম করেছে। শহীদদের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে।
দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
উপাচার্য একুশের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, একুশ আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক, সংগ্রামের প্রেরণা এবং মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও নৈতিকতার মাধ্যমে জাতির অগ্রযাত্রায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল এবং ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত এ আয়োজন নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের চেতনায় আরও উদ্দীপ্ত করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।