
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলাতে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একজন চালক দিয়েই ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে। বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় এই সীমিত ব্যবস্থা চরমভাবে অপ্রতুল হওয়ায় প্রতিনিয়ত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি মুহূর্তে অনেক রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরজমিনে জানা গেছে, একই সময়ে একাধিক রোগী গুরুতর অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করলেও যানবাহন ও জনবলের স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। দুর্ঘটনা, প্রসূতি রোগী ও আশঙ্কাজনক অবস্থার রোগীদের ক্ষেত্রে এই বিলম্ব অনেক সময় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
ভুক্তভোগীদের একজন সেবা প্রার্থী নূর মোহাম্মদ রোকন বলেন,
“জরুরি মুহূর্তে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আমি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারকে ফোন করি। কিন্তু তিনি জানান, তিনি তখন প্রশিক্ষণে (ট্রেনিংয়ে) রয়েছেন। বাধ্য হয়ে রোগীর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অন্য উপায়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।”
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মেহেরুল ইসলাম বলেন,“জনবল সংকটের কারণে একজন চালকই ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এতে কিছুটা ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। আজ চালকটি কুড়িগ্রামে থাকায় জরুরি কল থাকা সত্ত্বেও একজন ভুক্তভোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের মন্তব্য নেয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য দেন নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত কিংবা দুর্যোগপূর্ণ সময়ে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। একজন চালক একটানা দায়িত্ব পালন করায় শারীরিক ক্লান্তি ও বিশ্রামের অভাবে সেবার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, কুড়িগ্রামের উলিপুরের মতো জনবহুল উপজেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত আরও একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও প্রশিক্ষিত চালক নিয়োগ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগই পারে সাধারণ মানুষের জীবনরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।