ওসমান গনি
স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সিগঞ্জে গজারিয়া উপজেলা কিস্তির চাপ ও পারিবারিক মানসিক টানাপোড়েনের জেরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত গৃহবধূর নাম জিলহজ আক্তার (২৮)। তিনি কুমিল্লা জেলার চাঁনদিনা উপজেলার পরচঙ্গা গ্রামের মজিবুর রহমানের মেয়ে।
নিহতের স্বামী কামরুল ইসলাম (৩৫) কুমিল্লার চাঁনদিনা উপজেলার বড় বাড়েরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় বাবুর্চি এবং গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের পুরান বাউশিয়া গ্রামে আব্দুল হাসানের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। জানা যায়, তিনি প্রায় ৮ বছর ধরে গজারিয়ায় কাজ করে আসছিলেন এবং এক সপ্তাহ আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে চলে আসেন।তাদের তিন সন্তান দুটো মেয়ে একটি ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে কিছুদিন ধরে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা চলছিল।শনিবার ২১ ডিসেম্বর রাতে স্বামী বাসায় ফেরার পর স্ত্রী কান্নাকাটি শুরু করলে তিনি তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন,লোন যেহেতু নেওয়া হয়েছে, সময়মতো ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হবে।রাত ৩টা পর্যন্ত স্বামী স্ত্রী সজাগ ছিল।আগামীকাল হোটেলে কাজে যেতে হবে,তুমি ঘুমাও আমিও ঘুমাই।এ কথা বলে কামরুল ঘুমিয়ে পড়েন।
ভোর রাতে ফরজ নামাজের সময় কামরুল উঠলে বড় মেয়ে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা জানালে রান্নাঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মাকে ঝুলে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। পরে স্বামী কামরুল ইসলাম ছুটে গিয়ে স্ত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আশপাশের লোকজন এসে লাশ নামান এবং ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে গজারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং স্বামী কামরুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী এসআই মেহেদী সোহরত জানান, নিহতের শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে গলায় ফাঁসের দাগ স্পষ্ট ছিল।
নিহতের ভাই ইব্রাহিম (৪০) জানান, তারা এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ করতে চান না এবং লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনের জন্য প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আলি বলেন,খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। স্বামীকে থানায় আনা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।