গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহানকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে অভিযোগের ঝড় তোলা হয়েছে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এটি কোনো বাস্তবভিত্তিক অনুসন্ধান নয়, বরং একটি সুসংগঠিত অপপ্রচার, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি এবং স্বার্থান্বেষী মহলের কৌশলী কুৎসা প্রচারণা।
প্রশাসনিক বাস্তবতায় ‘বদলি’ একটি নিয়মতান্ত্রিক ও বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়া যেখানে একক কোনো কর্মকর্তার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব থাকার প্রশ্নই ওঠে না। নীতিমালা, সুপারিশ, দাপ্তরিক স্তর এবং যৌথ সিদ্ধান্ত সবকিছুর সমন্বয়ে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সেখানে সারোয়ার জাহানকে কেন্দ্র করে ‘বদলি বাণিজ্য’ তত্ত্ব দাঁড় করানো যুক্তির চেয়ে উদ্দেশ্যের দিকেই বেশি ইঙ্গিত করে। এটি বাস্তবতার চেয়ে রটনার রঙে রঞ্জিত এক প্রপাগান্ডা।
অভিযোগগুলোর ভাষা যতই জোরালো হোক, সেগুলোর ভেতরে প্রমাণের দৃঢ়তা নেই এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অবৈধ সম্পদ, বিদেশে অর্থ পাচার কিংবা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এ ধরনের গুরুতর অভিযোগে প্রয়োজন শক্ত দলিল, সুস্পষ্ট আর্থিক ট্রেইল ও নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে অভিযোগ আছে, অথচ প্রামাণ্য উপস্থাপন নেই। ফলে এটি তথ্যের চেয়ে কল্পনার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি বয়ান বলেই প্রতীয়মান হয়।
প্রকৌশল ও প্রশাসনিক মহলে খোঁজ নিলে যে চিত্রটি উঠে আসে, তা ভিন্ন। সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যে সারোয়ার জাহান একজন নীতিনিষ্ঠ, কর্মমুখী এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী কর্মকর্তা। দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনে তিনি নিয়মের বাইরে গিয়ে সুবিধা নেওয়ার বদলে বরং নিয়ম প্রয়োগেই কঠোর ছিলেন এমন মতামতই বেশি শোনা যায়। আর ঠিক এই কারণেই অনিয়মে অভ্যস্ত কিছু গোষ্ঠীর কাছে তিনি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছেন এটিও একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা।
২০২৩ সালের তথাকথিত ‘জামানত সংক্রান্ত’ বিষয়টি নতুন করে সামনে আনা হয়েছে কিন্তু এটিও ইতোমধ্যে প্রশাসনিকভাবে নিষ্পত্তিকৃত। তদন্ত শেষে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে অভিযোগটি আইনগত পরীক্ষায় টেকেনি। একটি নিষ্পত্তিকৃত বিষয়কে পুনরুজ্জীবিত করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা স্পষ্টতই চরিত্রহননের কৌশল।
ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়েও যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সেটিও প্রমাণনির্ভর নয়। একজন উচ্চপদস্থ প্রকৌশলীর দীর্ঘ চাকরি জীবনে অর্জিত সম্পদকে যাচাই-বাছাই ছাড়া ‘অবৈধ’ আখ্যা দেওয়া কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও। আইনসম্মত উপায়ে যাচাইয়ের পথ খোলা থাকলেও সেটি অনুসরণ না করে সরাসরি অভিযোগ ছড়ানো এটি অপপ্রচারের ক্লাসিক কৌশল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রশাসনের ভেতরে যখন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জোরদার হয়, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা কখনো অভিযোগের আড়ালে, কখনো গুজবের মোড়কে, আবার কখনো জনমত প্রভাবিত করার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করতে চায়। সারোয়ার জাহানকে ঘিরে চলমান বিতর্ক সেই পুরনো প্যাটার্নেরই পুনরাবৃত্তি।
এবিষয়ে কথা হলে প্রকৌশল সংবাদকে সারোয়ার জাহান জানিয়েছেন, বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিনির্ভর নয়, বরং সম্মিলিত প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই নেওয়া হয়। তাঁর এই অবস্থান প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।