
মো. হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর জেলার ৫টি আসনে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও সব আসনে সমান মাত্রার লড়াই দেখা যাচ্ছে না। কোথাও প্রধানত দুই প্রার্থীর মুখোমুখি অবস্থান, কোথাও আবার ভোট বিভাজনের কারণে সৃষ্টি হয়েছে জটিল ও অনিশ্চিত সমীকরণ। আসনভিত্তিক বিশ্লেষণে নির্বাচনী চিত্রটি ক্রমেই পরিষ্কার হয়ে উঠছে।
মূলত ১০ দলীয় ঐক্য জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গাজীপুর ৩ আসনে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গাজীপুর -২ আসনে অন্য তিনটিতে জামাত-বিএনপির মধ্যে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
গাজীপুর–১ (কালিয়াকৈর): ধানের শীষ বনাম জামায়াত–
এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী থাকলেও বাস্তব লড়াই সীমিত ধানের শীষের মুজিবুর রহমান ও জামায়াত প্রার্থী শাহ আলম বক্সির দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার কারণে ধানের শীষের প্রার্থী তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও ভোটার উপস্থিতির মাত্রা এই ব্যবধান বাড়াতে বা কমাতে পারে। জামায়াতের প্রার্থী এখনো পূর্ণ গতি না পেলেও পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
গাজীপুর–২ (সদর–টঙ্গী): ধানের শীষের সামনে সীমিত চ্যালেঞ্জ—
এই আসনে প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১২ জন। তবে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত ধানের শীষের এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও ১০ দলীয় ঐক্য জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলী নাসের খানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত মাঠের বাস্তবতায় ধানের শীষের প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও জোটভিত্তিক ভোট একত্রিত হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দৃশ্যমান হতে পারে। এখানে তৃতীয় পক্ষের ভোটারদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়, যা শেষ পর্যন্ত সমীকরণ বদলাতে পারে।এই আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকার তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করার রনি অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন।
গাজীপুর–৩ (শ্রীপুর–সদরের অংশ): দ্বিমুখী লড়াইয়ের আড়ালে ভোট বিভাজন—-
এই আসনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষের ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলনের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পূর্বের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত প্রভাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে ১০ দলীয় ঐক্য জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা এহসানুল হক জোটের সমর্থন পুরোপুরি থাকলে ফলাফল উলটে যেতে পারে।অন্যদিকে দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা থাকায় এই আসনটি স্পষ্টভাবে অনিশ্চিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।