
মোঃ হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর পূবাইলের হায়দরাবাদ এলাকায় আবারও ঘোড়ার মাংস বিক্রির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ধরা পড়েছে।
সোমবার (৪ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় র্যাব-১ এর বিশেষ অভিযানে ৩৭টি রুগ্ন ও অসুস্থ ঘোড়া এবং প্রায় ৫ মন ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ও অস্বাস্থ্যকর এই মাংস রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় “গরুর মাংস” হিসেবে বিক্রি করা হতো।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার মাংস ও জীবিত রুগ্ন ঘোড়া উদ্ধার করা হয়েছে। এসব পশু অমানবিক পরিবেশে রাখা হচ্ছিল। জব্দকৃত মাংস ধ্বংস করা হবে, আর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ একই স্থানে ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগে কসাই শফিকুর রহমানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সেই সময় গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া জানিয়েছিলেন, শফিকুর দীর্ঘদিন ধরে হায়দরাবাদ এলাকায় ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছিলেন। সতর্ক ও অঙ্গীকার নেওয়ার পরও তিনি পুনরায় অবৈধ ব্যবসা শুরু করেন। সেই জন্য শেষ বারের মত তাকে সতর্কবার্তা দিয়ে তাকে জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে এলাকাবাসী জানান, সেই শফিকুর আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও অবৈধ ঘোড়া জবাইয়ের ব্যবসা করছেন যা সমাজে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চক্র প্রতিদিন ১০–১৫টি ঘোড়া জবাই করে গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করত। অভিযোগ রয়েছে, একজন প্রভাবশালী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল।
মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্নে এ ধরনের নৃশংস ব্যবসা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন—আমরা জানিই না, হোটেলে গরুর মাংস খাচ্ছি নাকি ঘোড়ার মাংস!
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রুগ্ন বা মৃত ঘোড়ার মাংস মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
র্যাব ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ভয়ঙ্কর প্রতারণায় না জড়ায়।