মো. হাইউল উদ্দিন খান গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী শোভাযাত্রায় বাধা, পরিকল্পিতভাবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং ধারাবাহিক সহিংসতার প্রতিবাদে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা, মোঃ আলম হোসেনের নিকট লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি)জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পর কার্যালয়ের সামনেই দুপুর ২ টায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, গাজীপুর-২ আসনে শাপলা কলি মার্কার নির্বাচনী প্রচারণা পরিকল্পিতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং এটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তিনি অভিযোগ করেন, ৩১ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী শোভাযাত্রা নগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডের পোড়াবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির প্রচারণার মাইকবাহী অটোরিকশা ইচ্ছাকৃতভাবে শোভাযাত্রার গতিরোধ করে এবং উস্কানিমূলক আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শোভাযাত্রা রাস্তা পার হয়ে পোড়াবাড়ী বাজারের দিকে অগ্রসর হলে ধানের শীষের স্টিকারযুক্ত প্রাইভেট কার ব্যবহার করে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করার চেষ্টা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, একই ঘটনায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ও পরবর্তীতে আরেকটি সাদা প্রাইভেট কার দিয়েও তার ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়। এতে তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও এনসিপি জেলা সদস্য সচিব খন্দকার আল আমিন গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন ৩০ জানুয়ারি এরশাদনগর ৫ নম্বর ব্লকের ছোট বাজারে শাপলা কলির প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় এবং পোড়াবাড়ী বাজারে স্থাপিত তার নির্বাচনী বিলবোর্ড ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, এসব ঘটনা শুধু একটি দলের ওপর হামলা নয়, বরং পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতি অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান, শ্রমিক শক্তির প্রধান সংগঠক হিসেবে পরিচিত গাজীপুর জেলা নেতা মোঃ নাজমুল হোসেনসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। লিখিত অভিযোগপত্রে এসব ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ, আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে ১১ দলীয় জোট নেতৃবৃন্দ চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানান এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।