৮শ কোটি টাকার ২ লাখ মেট্রিকটন সার উৎপাদন ব্যাহত, বেতন কাঠামো নিয়েও শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ
সালমান রহমান, আশুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গ্যাস সঙ্কটের কারণে ১৬২ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে আশুগঞ্জ সারকারখানার উৎপাদন। এর ফলে কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদনের হার ১ হাজার ২০০ মেট্রিকটন হিসেবে ১৬২ দিনে প্রায় ২ লাখ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮শ কোটি টাকা। দীর্ঘমেয়াদে কারখানা বন্ধ থাকার ফলে ব্যাহত হয়েছে কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন।
ঘন-ঘন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কারখানার সার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে লাভজনক প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ সারকারখানা। অন্যদিকে কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারিদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে বেতন কাঠামো নিয়ে। এ প্রেক্ষিতে চলতি মাসের ১০ আগস্ট নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ ও “একই কর্পোরেশনে একই স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও গেট মিটিং করেছে।
আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও গেইট মিটিংয়ে বক্তৃতা করেন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউছার, বাংলাদেশ কেমিক্যালস ওয়ার্কার ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ এবং শ্রমিক নেতা মনিরুজ্জামান পাভেল প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে শ্রমিক-কর্মচারিরা কারখানার অভ্যন্তরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ কারখানার মহাব্যবস্থাপকের (প্রশাসন) মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ ও “একই কর্পোরেশনে একই স্কেল বাস্তবায়ন” দাবিতে শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একই কর্পোরেশনের আওতায় থাকা বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা ভিন্ন ভিন্ন বেতন স্কেলে আছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য তৈরি করছে। পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত টানা ১৬২ দিন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ মেট্রিকটন হিসেবে প্রায় ২ লাখ মেট্রিকটন ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৮শ কোটি টাকা। অন্যদিকে বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে কারখানাটির শ্রমিক-কর্মচারিদের মধ্যে। ফলে লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
শ্রমিক-কর্মচারিরা অভিযোগ করেন, একই কর্পোরেশনের আওতায় থাকা বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ও কর্মকর্তারা ভিন্ন ভিন্ন বেতন স্কেলে আছেন, ফলে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য চলছে। তাদের দাবি—বিসিআইসি’র সব প্রতিষ্ঠান ও উপপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য সমান জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর করতে হবে।
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু কাউছার বলেন, “আমরা বারবার কারখানায় দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন স্কেলের বিষয়ে ন্যায্য দাবির কথা জানিয়েছি, কিন্তু সমাধান হয়নি। তাই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে দাবির ন্যায্যতা তুলে ধরছি।
” ইউনিয়নের সভাপতি মো. বজলুর রশীদ সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন স্কেলের বিষয়টি যদি সমাধান না হয়, তাহলে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।