
তদারকির অভাবে রাজধানীর মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ে নিয়মবর্হিভূতভাবে ২ তলা ভবন এখন ৮ তলা নির্মিত
নার্গিস রুবি: রাজধানীর মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং (দ্বিতীয় পর্ব) এলাকায় অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পূর্বে ভেঙে দেওয়া একটি দুই তলা ভবন বর্তমানে নিয়মবহির্ভূতভাবে আট তলা পর্যন্ত নির্মাণাধীন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
পূর্বের উচ্ছেদ অভিযান:
গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ লিটন সরকার। উপস্থিত ছিলেন রাজউক জোন-৩ এর পরিচালক সালেহ আহমেদ জাকারিয়া, অথরাইজড অফিসার-৩/১ শেখ মাহাব্বীর রনি, ইমারত পরিদর্শক আলমগীর হোসেন, সহকারী অথরাইজড অফিসার রতন কুমারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানের সময় প্লট নং – ২৪ ব্লক- এইচ রোড নং- এন-৭ এই ঠিকানায় অবস্থিত ভবনটি দোতলা অবস্থায় ছিল। ভবনটি রাজউকের অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করে নির্মাণ করার অভিযোগে ভবনের ব্যত্যয় আংশিক অংশ রাজউকের উচ্ছেদ টিম ৯/১২/২৪ ইং ভেঙে বাকি বাকি ব্যক্তায়কৃত অংশ ভবন মালিক কে নিজ দায়িত্বে ভেঙে রাজউককে এক মাসের মধ্যে জানানোর শর্ত থাকলেও সে আইন ভবন মালিক অমান্য করেছেন । ব্যত্যয়কৃত অংশ না ভেঙে পূনরায় একই অনিয়ম করে ৭তলা ভবন নির্মাণ করেছেন।
তদারকির অভাবে পুনর্নির্মাণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদের পর কার্যকর নজরদারি না থাকায় ভবন মালিক পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেন। বর্তমানে ভবনটি ৭ তলা পর্যন্ত নির্মাণাধীন। প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ না থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, উচ্ছেদ অভিযান কি শুধুই তাৎক্ষণিক প্রদর্শনীমূলক পদক্ষেপ ছিল?
বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আইনি বাধ্যবাধকতা:
ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে দেশে কার্যকর রয়েছে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, ২০০৮। এসব আইনে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করলে নির্মাণকাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া যায়।
অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলা বা অপসারণ করা যায়। নির্দেশ অমান্য করলে অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
প্রয়োজনে ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ও ব্যয় আদায়ের ক্ষমতা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একবার উচ্ছেদ করার পর ধারাবাহিক তদারকি না থাকলে অনিয়ম আবারও ফিরে আসে, যা আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাজউকের অথরাইজড অফিসার ও ইমারত পরিদর্শকের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের বক্তব্য:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, “দোতলা অবস্থায় ভেঙে দেওয়ার পর যদি নিয়মিত নজরদারি থাকত, তাহলে ভবনটি ৭ তলা পর্যন্ত উঠতে পারত না।” তারা দ্রুত পুনরায় পরিদর্শন ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের এই ঘটনা রাজধানীতে ভবন নির্মাণে তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতা ও আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, রাজউক দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করবে।