1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
জরুরী নিয়োগ চলছে, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা,উপজেলা, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি বা সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

চলনবিলে শীতের দাপট বাড়ছে, দুশ্চিন্তায় নিম্ন আয়ের মানুষ

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা:
পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ে গঠিত চলনবিলে দিন দিন শীতের তীব্রতা বাড়ছে। সকাল ও সন্ধ্যায় ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে পথঘাট, অনেক এলাকায় সকাল ৯টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ বছর শীতের প্রকোপ গত বছরের তুলনায় আরও বেশি হতে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।
সরেজমিনে চলনবিল এলাকার হামকুরিয়া, চিনাশিকন্দর, মুরারিপুর গ্রাম, চাটমোহর নন্দনপুর সড়ক ও বিলপাড় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কুয়াশা ও ঠান্ডার জন্য কাজের সময় কমে যাচ্ছে। অনেক দিনমজুর সকালে কাজে বের হতে পারছেন না। ভ্যান ও অটোচালকদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
হামকুরিয়া গ্রামের ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম বলেন,এবার শীত অনেক বেশি পড়ছে। মনে হচ্ছে গত বছরের চেয়ে তীব্র হবে। শীত বাড়লে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের আয় কমে যায়, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
চিনাশিকন্দর গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন জানান, ভোরে জমিতে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন,
ঘন কুয়াশার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাব্বির হোসেন জানান, শীতের কারণে হাট-বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে। সকাল ও বিকেল দুই সময়েই ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে।
শীতের তীব্রতা বাড়ায় বিভিন্ন এলাকায় গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। লেপ-তোষক, সোয়েটার, টুপি ও মাফলারের দোকানে ক্রেতার চাপ থাকলেও নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় গরম কাপড় কিনতে পারছে না।
এদিকে শীতজনিত রোগব্যাধিও বাড়ছে। চলনবিল এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, ঠান্ডা-জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের নিচের শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন,
শীতপ্রবাহ বাড়লে শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্টসহ জটিল সমস্যা দেখা দেয়। তাই সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
পাবনা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের ঠান্ডা বাতাস এবং চলনবিল অঞ্চলের জলাশয়ের কারণে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারিতে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, চলনবিলে জলাশয় বেশি থাকায় শীতের প্রভাব এখানে তুলনামূলক বেশি অনুভূত হয়। এ বছর শীতের তীব্রতা কিছুটা বেশি হতে পারে।
শীতের আগাম দাপটে দুর্ভোগে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়মতো সহায়তা না পেলে শীতে কষ্ট আরও বেড়ে যাবে।
চলনবিলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে জনজীবন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি জীবিকা নির্বাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। দিন দিন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠায় শীত এখন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট