
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে ঘুমন্ত একটি পরিবারের শয়নকক্ষের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে বাড়ির ভেতরে রাখা খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভয়াবহ এ ঘটনায় বুদাস চন্দ্র রায় (৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে পুরো পরিবার। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম বালাগ্রাম চন্ডিহাটি ৪নং ওয়ার্ডে লিটন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ফেলানী রানী রায় (৬৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, রাতে খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে হঠাৎ আশপাশের লোকজনের চিৎকারে তাদের ঘুম ভাঙে। তখন ঘুম ঘোরের মধ্যেই তারা দেখতে পান বাড়ির ভেতর আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে, চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। তিনি আরও বলেন, আমরা ঘর থেকে বের হতে চাইলেও পারছিলাম না। দেখি শয়নকক্ষের দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। তখন মনে হয়েছিল, আজ বুঝি স্বপরিবারে আগুনে পুড়েই শেষ হয়ে যাবো। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তালা ভেঙে ঘরে আটকে পড়া পরিবারটিকে উদ্ধার করেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আগুনের তাপে ও ধোঁয়ায় বুদাস চন্দ্র রায় গুরুতর আহত হন। তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী লিটন চন্দ্র রায় জানান, পরিকল্পিতভাবেই দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির মূল দরজা ও শয়নকক্ষের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। একই কৌশলে তার প্রতিবেশী তরনী মোহন চন্দ্র রায় ও চাটি রাম রায়ের বাড়িতেও আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা নিশ্চিত নই। তবে শুধু খড়ের গাদাতেই আগুন দেওয়া হয়েছে, অন্য কোথাও আগুনের সূত্রপাত হয়নি। এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা শাখার আমীর মোখলেছুর রহমান মাস্টার, নায়েবে আমীর ও প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মোয়াম্মার আল হাসান, বিশিষ্ট ঠিকাদার ও জামায়াত নেতা হামিমুর রহমান হামিম এবং বালাগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন, সান্ত্বনা জানান এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।