নীলফামারীর জলঢাকায় প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী শ্রমিকের প্রাণ ঝরে গেছে। একই দুর্ঘটনায় আরও দুই নারী গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। মঙ্গলবার ২১ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে জলঢাকা পৌরসভার দুন্দিবাড়ী চৌকিদার মোড়ে এলাকায় জলঢাকা–ডোমার-ডিমলা পাকা সড়কে ট্রাক ও চার্জার ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত নারী পাতা রানী (২৬) স্বামী-নিপেন্দ্রনাথ, ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং তিনি সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি কেশ কোম্পানিতে কাজ করতেন। প্রতিদিন ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে চার্জার ভ্যানে করে কর্মস্থলে যেতেন। কিন্তু মঙ্গলবারের সকালটি আর তার জীবনে নতুন দিনের সূচনা হয়ে ওঠেনি ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে চার্জার ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পাতা রানীর মৃত্যু হয়। একই ভ্যানে থাকা দিতি রানী (২৮) পিতা-বাকরাম রায়,ও ভগবতী রায়,পিতা-ধর্ম নারায়ণ রায়, গুরুতর আহত হন, উভয়ের সাং-পশ্চিম কাঁঠালি, ভোগমারী,কাঁঠালি, জলঢাকা উপজেলা। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে অটোযোগে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বিবেচনায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড ব্রেকার স্থাপনের জোর দাবি জানান। খবর পেয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুত সেখানে স্পিড ব্রেকার স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঘটনাস্থলে জলঢাকা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। নিহত পাতা রানীর মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জলঢাকা থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে