
অগণতান্ত্রিক আচরণ, উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত ও নেতৃত্বশূন্যতার প্রতিবাদ—সংবাদ সম্মেলনে বিস্ফোরক অভিযোগ
সৈয়দ মহসিন : কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় গণ অধিকার পরিষদের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতা একযোগে দলত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৮টায় কটিয়াদীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা বর্তমানে কতিপয় স্বার্থান্বেষী ও অযোগ্য নেতৃত্বের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। জেলা কমিটির অগণতান্ত্রিক আচরণ, সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চরমভাবে উপেক্ষিত হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী নেতাকর্মীদের গত ৫ আগস্টের পর পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে। কোনো ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বা আলোচনা ছাড়াই উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করে কটিয়াদী গণ অধিকার পরিষদকে নেতৃত্বশূন্য করা হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন না করায় নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক পরিচয়হীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেলা কমিটির ব্যর্থতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটিকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলেই হোসেনপুর ও তারাইল উপজেলার পর এবার কটিয়াদী উপজেলাতেও ব্যাপক দলত্যাগের ঘটনা ঘটল।
কটিয়াদী উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আলীউজ্জামান মহসিন বলেন,
“আমরা নূরুল হক নূরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার।”
তিনি আরও বলেন, জেলা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী জানাব শফিকের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং চরম সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতার কারণেই তারা দলত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
যারা দলত্যাগ করেছেন:
সৈয়দ আলীউজ্জামান মহসিন, মিজানুর রহমান, মো. শরীফুজ্জামান, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, তাবাসসুম হোসাইন, আশিকুর রহমান, মো. সাদেক হোসেন খোকা, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. স্বপন মিয়া।
এছাড়াও আচমিতা ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদের ২৮ জন সদস্য একযোগে দলত্যাগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গণ অধিকার পরিষদের সঙ্গে তাদের আর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। ভবিষ্যতে তারা কোন রাজনৈতিক কর্মপন্থা গ্রহণ করবেন, তা সময়মতো জাতির সামনে ঘোষণা করা হবে।