আঃ মান্নান (স্টাফ রিপোর্টার) : আর্টিকেল নাইন্টিন এর সার্বিক সহযোগিতায়
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (Global Affairs Canada) এর অর্থায়নে
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (BJPC) এর নারী সাংবাদিকদের মাঝে নয়টি উন্নত মানের ল্যাপটপ বিতরণ করায় সাংবাদিকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শুধু প্রশংসা নয় আশার আলো দেখছে সাংবাদিক মহল। ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশায় সাংবাদিকরা যখন হতাশা অর্থ সংকট আর বেতন বৈষম্যে ঢুকছিল ঠিক তখনই যেন আশার আলো দেখালো গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (Global Affairs Canada)। যাদের অর্থায়নে এবং আর্টিকেল ১৯ এর সার্বিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির নয় নারী সদস্যের মাঝে গত ১লা জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, ঢাকা খুলনা বাগেরহাট গোপালগঞ্জের নারী সাংবাদিকদের মাঝে নয়টি ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। ল্যাপটপ বিতারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক দৈনিক ইত্তেফাকের খুলনা ব্যুরো প্রধান এনামুল হক বলেন, আমার সাংবাদিক জীবনে কখনো দেখিনি যে সাংবাদিকদের মাঝে এভাবে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয় আসলে সাংবাদিকরা যদি একটু সহযোগিতা পায় তাহলে তাদের সংবাদ পরিবেশন এবং দেশ ও জনগণের উন্নয়নের কাজ করতে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে নারী সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ সাংবাদিক জগতে অনেকটা কমে গিয়েছে। তবে আজ এ পদক্ষেপের মাধ্যমে নারীসাংবাদিকরা তাদের কর্ম ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
টিভি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জামান বলেন, আর্টিকেল নাইন্টিন দীর্ঘদিন ধরেই সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করে আসছে আর এমন একটি বড় সংগঠনের ছত্রছায়ায় বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি গঠিত হওয়ার সুফলী আজ খুলনার নারী সাংবাদিকরা ভোগ করছে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই আর্টিকেল নাইন্টিন এবং যাদের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (Global Affairs Canada) কে যাদের অর্থায়নে আজ বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির নয় নারী সদস্য ল্যাপটপ সহায়তা পেলেন। আসলে নারী সাংবাদিকরা এ পেশা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, কর্ম ক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ না থাকা প্রয়োজনের সরঞ্জাম এবং অর্থসংকট থাকার কারণে এ পেশা থেকে সরে যাচ্ছে। সুতরাং আজ এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে শুধু নারী সাংবাদিক নয় পুরুষ সাংবাদিকরাও আশার আলো দেখছে।
খুলনার সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার বলেন, শুধু খুলনা নয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা একটা নজির স্থাপন করেছে। প্রকৃতপক্ষে এপিষায় নারী সাংবাদিকরা আরও সম্পৃক্ত হওয়া উচিত কিন্তু নারী সাংবাদিকরা সঠিক পরিবেশটা পায়না যার কারণে এ পেশা থেকে সরে যাচ্ছে না এই সাংবাদিকরা অর্থাৎ একজন শিক্ষিত নারী এ পেশায় আসলে যে পরিমাণ সম্মান পাওয়া উচিত তার কিছুই পাওয়া হয় না দেওয়া হয় না কোন সরঞ্জাম। অতএব আর্টিকেল নাইন্টিন এর সহযোগিতায় গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (Global Affairs Canada) এর অর্থায়নে বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির ৯ জন নারী সদস্যদের মধ্যে যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হলো তার সাংবাদিক জগতের একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। আমরা আশা করব এভাবে সাংবাদিকদের পাশে থেকে আরো নারী সাংবাদিক এবং পুরুষ সাংবাদিকদের উৎসাহ যোগাবে সংগঠনটি।
ল্যাপটপে পেয়ে দি অবজারভার এর রিপোর্টার ইসরাত জাহান বলেন, এতদিন শুধু পুরুষশাসিত সমাজে সাংবাদিক পেশায় এসে অপমান অপদস্তসহ নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আজ আর্টিকেল ১৯ (ARTICLE 19) ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (Global Affairs Canada) এর অর্থায়নে বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির মাধ্যমে আজকে ল্যাপটপ উপহার পেলাম তা আমার সাংবাদিক জগতের পেশাটাকে পরিবর্তন করে দেবে। আমার মনোবল বৃদ্ধি পেল আগামীতে আরও ভালো রিপোর্ট করতে উৎসাহী হব।
ল্যাপটপ পাওয়া তন্দ্রা দাসের পিতা সাধন কুমার দাস চোখের পানি ঝরিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, বিদেশীরা যে আমার মেয়েকে চিনবে আমার কোনদিন ভাবিনি বাসায় কাজ করা দিনমজুর খেটে খাওয়া একটি পরিবারের সন্তান সাংবাদিক পেশায় এসে এভাবে ল্যাপটপ উপহার পাবে। আমি আজ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিনা। মেয়েটাকে যখন প্রথম সাংবাদিক পেশায় দেই তখন সকলেই বলেছিল তোমার মেয়ে শেষ নানা ভয় ভীতি দিয়েছিল এখান থেকে বেতন দেওয়া হয় না কিছু দেওয়া হয় না শুধু অপমান অপদস্ত হয়েছি আমি। আজ মনে হচ্ছে আমার যদি আরও একটি মেয়ে থাকতো তাহলে তাকেও আমি সাংবাদিক পেশায় দিতাম।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির সভাপতি কৌশিক দে বলেন, সাংবাদিকতা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। তারপর যদি হন নারী,তাদের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ ধরণের সহযোগিতা তাদের উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মনিটরিং করা প্রয়োজন। পুরুষদের ক্ষেত্রও সহযোগিতা প্রয়োজন রয়েছে। সাংবাদিকরা পেশাগত দক্ষ হলে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দ্বার উন্মোচিত হবে। ৯ জন নারী সাংবাদিক কে ল্যাপটপ প্রদান করায় বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান করির বলেন, ২০২৪ সালের সংগঠনটি যখন ইউরোপে ইউনিয়নের অর্থায়নে ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড ও আর্টিকেল নাইন্টিনের সহযোগিতায় একটি প্রজেক্ট এর মাধ্যমে গঠিত হয় তখন আমরা ভাবতেও পারিনি যে আমাদের পাশে এভাবে আর্টিকেল ১৯ তাদের নিজস্ব সংগঠন ভেবে আমাদের পাশে দাঁড়াবে। আমরা অভিভূত আমরা আনন্দিত আমরা আজ সাহস পাচ্ছি যে আমাদের পাশে আর্টিকেল নাইনটির নামে একটি সংগঠন রয়েছে আমরা আজ সাংবাদিকদের আশার আলো দেখাতে পারি আমরা নারী ও পুরুষ সাংবাদিকদের বলতে পারি, তোমরা মাঠে প্রান্তে কাজ কর ভয় নেই আমাদের পাশে আছে আর্টিকেল ১৯ নামে একটি সংগঠন।