মোঃ আনিসুর রহমান শেলী :
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে অনশনকারীদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে পানি পান করালেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। টাঙ্গাইলের নদী- খাল- বিল, জলাশয়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সহ পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন দাবিতে ''নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি'র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্যের নেতৃত্বে ৪ দিন ধরে গণ অনশন কর্মসূচি চলেছে। টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে পরিবেশবাদী নেতাকর্মীরা মানববন্ধন শেষে ০৮ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিন যাবত এ গণ অনশন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। অনশনের এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টোকাই নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা সাজু মেহেদী, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক কবি আবু মাসুম ও নাট্যাভিনেতা জাকির হোসেন। অনশনের সংবাদ পেয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে এসে অনশনকারীদের পানি পান করিয়ে তাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। অনশনকারীরা প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিভিন্ন দাবী সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের দাবির প্রতি সহমত প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনশনে স্থানীয় সচেতন নাগরিকগণ, পরিবেশকর্মী, নাট্যকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সহ সভাপতি মো: রাশেদ খান মেনন, সাংগঠনিক সম্পাদক তালহা আল মাহমুদ, মাসুম, আবুল কালাম আজাদ, রাহাত মিয়া, হুমায়ুন খান, রাবেয়া বেগম, নীলা আক্তার 'সহ বিভিন্ন সংগঠনের অন্যান্য সদস্যগন। প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত স্মারকলিপির মাধ্যমে -নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি'র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন নদী, খাল-বিল ও জলাশয় আজ দূষণ ও দখলের কারণে দ্রুত অস্থিত্ব হারাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে শ্যামাপদ খাল, ব্রাহ্ম সমাজের ঐতিহাসিক মন্দির, জাদু সম্রাট পিসি সরকার এর ঐতিহাসিক বাড়ি, শান্তিকুঞ্জ মোড় জাহাঙ্গীর স্মৃতি সেবাশ্রম সহ প্রাচীন বিভিন্ন স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো অযত্ন, অবহেলা ও দখলের কারণে বিলুপ্তির পথে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, দখল দূষন ও অবৈধ স্থাপনা নির্মানের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষি, পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতি জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দায়ীত্বহীন অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের কারণে জেলা শহরে অনুমোদনহীন ও প্লান বর্হিভূত বহুতল ভবনের সংখ্যা বাড়ছে। এতে করে ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন ধরণের ঝুঁকি বাড়ছে।
প্রত্মতাত্তিক নিদর্শন মসজিদ, মন্দির ও পুরাতন স্থাপনা যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রাচীন স্থাপত্য ও ধর্মীয় ঐতিহ্য বিলুপ্তের দারপ্রান্তে। অপরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং অনিয়মতান্ত্রিক বালুমহল এর কারণে গতিপথ হারাচ্ছে নদী। এতে
জনজীবনে দূর্ভোগসহ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আমাদের টাঙ্গাইল জেলা শহরের নিরালা মোড় সংলগ্ন শ্যামাপদ খাল'সহ নদী-খাল-বিলের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন করে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। খাস খতিয়ান ভুক্ত সকল পুকুর উদ্ধার এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে হবে।
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণে কার্যকর আইন প্রয়োগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
ধর্মীয় ও প্রত্মত্বাতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলোকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষণ ও পুনঃনির্মাণে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
জনস্বার্থে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। জনস্বার্থে টাঙ্গাইল -নাগরপুর সড়কের শামসুল হক (এলাসিন) সেতুর টোল আদায় বন্ধ করতে হবে।
টাঙ্গাইল জেলাকে মাদক ও কিশোর গ্যাং মুক্ত করতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধিতে ডাক্তার ও বিভিন্ন টেস্টের ফি সরকারি ভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ঐতিহ্যবাহী ভাসানী হল সংস্কার করতে হবে। সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন রাস্তার মাঝে বিদ্যমান বৈদ্যতিক খুঁটিগুলো অপসারণ করতে হবে। যানযট নিরসণে ফুটপাত গুলোকে দখল মুক্ত করতে হবে। ভূমিকম্প ও অন্যান্য দূর্যোগ প্রতিরোধে অনুমোদনহীন ও প্লান বহির্ভূত ভবন নির্মান বন্ধ করতে হবে।
আমরা আশা করি, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আমাদের এই ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।