বুলবুল হাসান, পাবনা জেলা প্রতিনিধি : মালয়েশিয়ায় কাটছে দাসত্বের জীবন! বাঁচার আকুতি প্রবাসীদের। কাজের খোঁজে পাড়ি জমিয়েছিলেন স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় কিন্ত আট মাস কেটে গেলেও মেলেনি প্রত্যাশিত চাকরি। কিছু দিন কাজ করালেও পরে আর কাজ দেননি দালাল চক্র। রেখেছেন গৃহবন্দী করে। নেই খাবারের ব্যবস্থা, খাওয়া জোটে কোনদিন একবেলা, খুবজোর দুই বেলা। দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গিয়ে এমন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন অভিযোগ পাবনার তিন যুবকের। কৃতদাসের এমন জীবন থেকে মুক্তি চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বেড়া উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের আনিসের ছেলে লাল বাবু দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে দিশেহারা অবস্থা এখন তার। লাল বাবুর বাবার অভিযোগ স্থানীয় এলাকার দালাল শাহাদাৎ মোল্লা মাধ্যমে ৪ লক্ষ আশি হাজার টাকা দিয়ে দীর্ঘ আট মাস আগে সেখানে গেলেও কাজ দেননি। রেখেছেন গৃহবন্দী করে। অন্যদিকে এলাকায় কিস্তির ও লাভের টাকা দিতে না পারায় পরিবারে সদস্য রয়েছে মহাবিপদে । অথচ দালালের দুই ছেলে ঐখানে কাজ করছে। অন্যদিকে লাল বাবুর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় রয়েছে মহা বিপদে।
সুজানগর উপজেলার দুলাই চৌধুরী পাড়ার সাত্তার সেখের ছেলে মজির উদ্দিন, মুঠোফোনে জানান আমি আট মাস যাবত মালয়েশিয়ায় এসেছি আমাকে কোনো কাজ দেয়নি। দালাল শাহাদাৎ মোল্লা, সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা বললে তারা বলেন অপেক্ষা করতে গৃহবন্দী করে রেখেছে ঠিক মতো খাবার নেই পানিও। খুবই বিপদের মধ্যে আছি। এ থেকে মুক্তি পেতে চাই।
সাঁথিয়া উপজেলার সাঁথিয়া ফকির পাড়া গ্রামের আলিমের ছেলে হাফিজুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান আমি আট মাস আগে মালয়েশিয়া এসেছি আমার কোনো কাজ নেই। আমার দালাল শাহাদাৎ মোল্লা তার বড় ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও ছোট ছেলে মনিরুল ইসলাম রাকসা বাড়ি। টাকা নিয়েছ ৪ লক্ষ আশি হাজার। যে কোম্পানির নামে ভিসা দিয়েছিলো তারা গ্রহণ করে নাই এখন আমাদের গৃহবন্দী করে রেখেছে। অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এদিকে, আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অভাবে দিন কাটছে তাদের পরিবারের।
রিক্রুটিং এজেন্সির দালাল শাহাদাৎ মোল্লার সাথে কথা বললে তিনি বিষয় টি এড়িয়ে যায়। সেখান থেকে চলে আসার পরে উল্টো লোক মারফত মুঠোফোনে অশালীন ভাষায় হুমকি প্রদান করে।