ওসমান গনি
স্টাফ রিপোর্টার
নিহত শ্রাবন্তী ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা !
পাষান্ড স্বামী শারীরিক ও পাশবিক নানান নির্যাতনে করুন মৃত্যু হয়েছে শ্রাবন্তী আক্তার দীপা নামক এক গৃহবধূর । নিহত ঢাবির ছাত্রী গৃহবধূর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া এলাকায় । এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ ভুইঘর কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করইতলা এলাকায় । ২৯ মার্চ ২০২৬ রাতে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শ্রাবন্তী আক্তার দীপার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ দিকে জানা গেছে স্বামী ও তার পরিবারের দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও পারিবারিক অশান্তির জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে নিহতর নারীর স্বামী দাবি করলেও নিহতর পরিবারের অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন। এর সাথে ঢাবির ছাত্রী হত্যাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য মোটা অংকের টাকা খরচ করে হত্যার মোটিভ অন্যদিকে প্রবাহিত করা করছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহত নারীর পরিবার । স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতনে শ্রাবন্তির মৃত্যু হয় শ্রাবন্তির পরিবারের সদস্য ও এলাকার লোকজনের এটাই দাবি । নিহত শ্রাবন্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।
নিহত শ্রাবন্তী আক্তার (৩১) মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বড় বসুরচর এলাকার ইব্রাহিমের মেয়ে শ্রাবন্তী আক্তার দীপার। ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ তার বিয়ে হয় চাঁদপুর মতলব উত্তর বাড়িভাঙ্গা গ্রামের জহিরুল ইসলাম (পিতা—নিজাম উদ্দিনের) সঙ্গে। তাদের সংসারে রয়েছে ১০ বছরের এক ছেলে সন্তান। বিয়ের পর থেকেই স্বামী জহিরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুক ও বিভিন্ন উপৌকটন এর জন্য প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিকভাবে বিভিন্ন টর্চার করত। ঘটনার দিনও শ্রাবন্তীর উপর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন করেন বলে এলাকার লোকজন এ তথ্য জানান।
স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ বহুদিনের । এই পর্যন্ত শ্রাবন্তী তার বাবার বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশী জহিরুল ইসলাম কে এনে দেয় সুখে সংসার করার জন্য । তবুও যাতে রেহাই পাওয়া যায় নির্যাতনের হাত থেকে কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না শ্রাবন্তীর অবশেষে স্বামী এবং ভাসুর ও ভাসুরের ছেলে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নির্যাতনের জীবন দিতে হলো ঢাবির এই ছাত্রীকে।
পরিবারের সদস্যরা আরো জানান, বিয়ের পর থেকেই নানা অজুহাতে স্বামী জহিরুল ইসলাম শ্রাবন্তীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন এর সাথে একাধিক বার বাড়ি থেকে বের করে দেন শ্রাবন্তীকে। জহিরুলের ভাই নজরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন আত্মীয় নিয়মিত শ্রাবন্তীর বাড়িতে এসে কলহ সৃষ্টি করতেন এবং ঘটনার দিন নির্যাতনে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের ভাই অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোনকে বছরের পর বছর নির্যাতন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেই নির্যাতনই তার প্রাণ নিল।” ঘটনার রাত গত ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শ্রাবন্তী নিজের কক্ষে গলায় ফাঁস দেন বলে দাবি করেছে স্বামীর পরিবার। আসলে এটা মিথ্যা তাকে মেরে ফেলে আত্মহত্যা বলে চালাচ্ছেন তারা । খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান । শ্রাবন্তির ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঘটনার দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে জহিরুল ইসলাম, তার ভাই নজরুল ইসলাম ও ভাতিজাদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের বক্তব্য ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মাসুম ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে নিহত নারীর পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। এর সাথে বলে বেড়াচ্ছে তোমরা যদি মামলা করো বা এই বিষয়ে বাড়াবাড়ি করো তাহলে তোমাদের দেখে নেব। এই বিষয়ে জানতে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার মাসুম এর ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি ।
সূত্রে আরও জানায় যৌতুক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে “দীর্ঘদিন ধরেই তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। এলাকার লোকজনক পরিবারের পক্ষ থেকে বহুবার সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও টানাপোড়া কমেনি। শেষ পর্যন্ত স্বামী ও তার পরিবারের নির্যাতনে এমন মর্মান্তিক ঘটনার মাধ্যমে গৃহবধূর পরিণতি হলো মৃত্যুর লাশে।”
স্বামীর ও পরিবারের নির্যাতনে নিহত শ্রাবন্তী আক্তার দীপার পরিবার অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পুলিশ জানায় প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও নির্যাতনের অভিযোগসহ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, “ময়না তদন্তের রিপোর্ট সহ সব তথ্য বিশ্লেষণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নিহতের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। এই বিষয়ে জানতে নির্যাতনের নিহত নারীর স্বামী জহিরুল ইসলামের সাথে তার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।