
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এই নির্বাচন দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, নাগরিক সচেতনতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির একটি কঠিন পরীক্ষা। ইতিহাস সাক্ষী, যে জাতি নির্বাচনকে হালকাভাবে নেয়, ভবিষ্যৎ তাকে কঠিন মূল্য দিতে বাধ্য করে।
নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, বক্তব্যের লড়াই ও প্রতিশ্রুতির বন্যা স্বাভাবিক। কিন্তু এই কোলাহলের ভেতরে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দায়িত্বশীল আচরণ, বিশেষত গণমাধ্যমের। সংবাদমাধ্যম কোনো রাজনৈতিক শক্তির ঢাল বা হাতিয়ার নয়। গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা, বাস্তবতা তুলে ধরা এবং জনগণকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সহায়তা দেওয়া।
একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমার অবস্থান দ্ব্যর্থহীন। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেবো না, আবার অকারণ বিরোধিতার পথেও হাঁটবো না। পক্ষপাত পরিবর্তে সত্যই আমার পরিচয়। তবে একই সঙ্গে আমি এই রাষ্ট্রের একজন নাগরিক। ভোট দেওয়ার অধিকার আমার আছে, থাকবে। আমি আমার বিবেক ও বিশ্বাসের আলোকে আমার পছন্দের প্রতীকে ভোট দেবো; যেমনটি দেবেন আপনি, তিনি, তারা.. প্রত্যেকে নিজের মতো করে। এটাই গণতন্ত্রের মৌল সৌন্দর্য।
এই নির্বাচন যেন ভয়ের নয়, আস্থার হয়। যেন শক্তির নয়, যুক্তির হয়। যেন বিভাজনের নয়, অংশগ্রহণের হয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু ক্ষমতাসীন বা বিরোধী পক্ষের প্রয়োজন নয়, এটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বগত প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও ভোটার, সবার সম্মিলিত দায়িত্বেই নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য রূপ পায়।
আজকের ভোটই ঠিক করে দেবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে। উন্নয়ন যদি হয়, তা যেন ন্যায়ের সঙ্গে হয়। অগ্রগতি যদি আসে, তা যেন মানুষের কণ্ঠরোধ করে না আসে। রাষ্ট্র শক্তিশালী হোক, কিন্তু নাগরিকের অধিকার খর্ব করে নয়।
আগামী বাংলাদেশ যেন হয় সত্যিকার অর্থেই সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম শর্ত একটি দায়িত্বশীল নির্বাচন, আর তার সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা সচেতন নাগরিক ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম।
…………..
লেখক:
এম এইচ মুন্না
প্রধান সম্পাদক, দৈনিক গণতদন্ত
দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ সাংবাদিক এসোসিয়েশন (বিজেএ)