বিশেষ প্রতিবেদক
ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত, পারিবারিক জীবনে যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এর সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ভাগিনীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বিসিকের কর্মীব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন। সম্প্রতি জাতীয় শ্লোগান জয়বাংলার অবমাননা এবং জাতির পিতার অবমাননা করে ব্যানার ভাংচুর করে লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য হিসেবে আরেকটি অর্জন জমা হয়েছে তার ব্যক্তিগত ঝুঁলিতে।
বিসিক চেয়ারম্যান মুহঃ মাহবুবর রহমান এবং বিসিক পরিচালক পর্ষদের সদস্য কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং শ্যামলী নবী এর আস্থাভাজন কর্মীব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন নিয়োগ বাণিজ্যের সোনার ডিম পাড়া হাঁস এর উপর ভর করে সরকারের প্রচলিত আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বীরদর্পে আহরণ করছেন নিয়োগ কাজের সহযোগী কর্মকর্তা হিসেবে সম্মানী ভাতার নির্ধারিত হার প্রতিদিনের জন্য ১,০০০/-(এক হাজার) এর স্থলে ১০,০০০/-(দশ হাজার) টাকা। সকাল এবং বিকালের নাস্তা বাবদ নির্ধারিত হারের কয়েকগুন নিচ্ছেন ভুয়া হিসাব দেখিয়ে।
৩০ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে বিসিক পরিচালক পর্ষদের ৮০০-তম বোর্ড সভায় সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে পর্ষদ সদস্য কামাল উদ্দিন বিশ্বাস (যিনি বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী মনোভাবাপন্ন) এর কুমন্ত্রণায় বিসিক এক্টে প্রদত্ত ক্ষমতার বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নিয়োগ ও পদোন্নতি সংশ্লিষ্ট কাজের সহযোগী কর্মকর্তার সম্মানী ভাতার হার ১০০০/- এর পরিবর্তে ৫,০০০/- এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। মোঃ আরিফ হোসেন অবৈধ অর্থের একজন ভাল যোগানদাতা হিসেবে পরিচালক কামাল উদ্দিন এর নিকট ভীষণভাবে গ্রহণযোগ্য।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি-২ অধিশাখার ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখের জারীকৃত পরিপত্র স্মারক ০৭.০০. ০০০০.১৭২.৩৩.০২১.২০.৩৮ মূলে সরকারী অফিস সমূহে নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির সম্মানী ভাতার পুনঃনির্ধারিত হার বিভাগীয় নির্বাচন ও পদোন্নতি কমিটির সদস্যদের সম্মানী ভাতার পুনঃনির্ধারিত হার হচ্ছে প্রতিদিনের সম্মানী ভাতা, ৫,০০০/- টাকা, দুপুরের/রাতের খাবার ৪৫০/-, টাকা, নাস্তা ২০০/- টাকা।
বিভাগীয় নির্বাচন ও পদোন্নতি কমিটির কাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ৯ম গ্রেড ও তদুর্ধ কর্মকর্তার প্রতিদিনের সম্মানী ভাতা ১,০০০/-টাকা, ১০ থেকে ১৬ গ্রেড এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্মানী ভাতা ৮০০/-টাকা, ১৭ গ্রেড হতে ২০ গ্রেডের কর্মচারীর সম্মানী ভাতা ৬০০/-টাকা।
মোঃ আরিফ হোসেন ৯ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা প্রতিদিন সম্মানী ভাতা গ্রহন করছেন প্রতিদিন ২ সেশনের জন্য ১০,০০০/- টাকা হারে এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যদের সমপরিমাণ অর্থ খাবার এবং নাস্তা খরচ বাবদ গ্রহনের মাধ্যমে সরকারী অর্থ আত্মসাত করে চলেছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখা-১ এর পত্র নং-০৭.১০১.০২০.০০.০০. ০০১.২০০৯-০১ তারিখ ০৩ জুলাই এর মাধ্যমে সরকারী ব্যয়ে কৃচ্ছতা সাধনের নির্দেশনা জারী করা হয়েছিল। প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন আইনের অপব্যাখ্যা করে সরকারী অর্থ আত্মসাত করা হচ্ছে। বিসিক আইনের দোহাই দিয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষ সম্মানী ভাতার হার নির্ধারনের ক্ষেত্রে সমর্থ হলে দেশের এবং সরকারের প্রচলিত আইনের প্রতি তাদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাবোধ প্রদর্শনের দরকার হবেনা। প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিজেদের সুবিধামতো বিধি-বিধান প্রয়োগে নিমগ্ন থাকবে তারা।
বিসিক চেয়ারম্যান এবং পরিচালক পর্ষদের সদস্যগণ সরকারী কর্মচারী। সরকারী কর্মচারী হিসেবে সরকারের এবং দেশের প্রচলিত আইন এবং বিধি বিধান অনুসরণ করে কার্য সম্পাদন করতে তারা বাধ্য। বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিক পরিচালক পর্ষদের সদস্যগণ আইনের উর্ধে অবস্থান নিয়ে থাকার কোন সুযোগ নেই। সরকারী বিধিবিধান এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে কার্য সম্পাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বিসিকের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় শিল্প মন্ত্রণালয় এর। এক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্বিকার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে কর্তৃপক্ষের আশীর্বাদপুষ্ট একমাত্র কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন এর বিরুদ্ধে বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ প্রত্যাশী মোঃ আনোয়ার হোসেন, পিতাঃ মোঃ আবসার আলী, মাতাঃ আনজু আরা বেগম রোল নম্বরঃ ১৫০০৭৫১৬ (পরীক্ষা অনুষ্ঠানের তারিখ ২৬ মে ২০২৩) এর চাকুরী নিশ্চিত করার জন্য তার নিকট ফোন করে বিরাট অংকের অর্থ দাবী করেন। চাকুরী প্রত্যাশী মোঃ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি বিসিক কর্তৃপক্ষের নজরে নেয়ার পর পরিচালক (পরিকল্পনা) মোঃ আহসান কবীর বিষয়টি অবগত হয়ে পরিচালক(প্রশাসন) শ্যামলী নবী এবং পরিচালক(দক্ষতা ও প্রযুক্তি) কাজী মাহবুবুর রশীদ-কে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে তাদের উপস্থিতিতে চাকুরী প্রত্যাশী ব্যক্তির নিকট টেলিফোনে মোঃ আরিফ হোসেন এর টাকা চাওয়ার বিষয়টির প্রমাণ করেন।
তাছাড়া আরো অনেকে টেলিফোন মারফতে মোঃ আরিফ হোসেন কর্তৃক টাকা চাওয়ার বিষয়ে তাদের মৌখিক অভিমত ব্যক্ত করে চলেছেন। মোঃ আরিফ হোসেন নিয়োগ বাণিজ্য করছেন-বিষয়টি প্রমাণিত, ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বিসিক কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিক কারণে চাকরি প্রত্যাশীদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের পরও শুধুমাত্র অসাধু চক্রের আর্থিক লিপ্সার কারণে চাকরী প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হতে হচ্ছে তাদেরকে।
ঘূষ, দূর্ণীতি, অনিয়ম, অশোভন আচরণ এর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠার সাথে সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে তাৎক্ষণিকভাবে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানের বিধান থাকা স্বত্তেও বিসিক চেয়ারম্যান এর তরফ হতে কর্মীব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার কারণটি রহস্যাবৃত। এক্ষেত্রে বিসিকের নিয়োগ কমিটির সভাপতি কামাল উদ্দিন বিশ্বাস এবং পরিচালক (প্রশাসন) এর ভূমিকাটিও প্রশ্নবিদ্ধ।
৯ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন নিয়োগ কাজের সহযোগী কর্মকর্তা হিসেবে সম্মানী ভাতা খাতে ১ কোটি টাকার উপর অগ্রিম গ্রহন করে।