1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
March 22, 2026, 12:37 am
Title :
টাঙ্গাইলে একদিন আগেই ৪০ পরিবারের ঈদ উদযাপন গজারিয়ায় অবৈধ চুনা কারখানা শুরুর আগেই উচ্ছেদ. রূপসা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী আতাউর রহমান রুনু-র ঈদ উপহার পেলেন ৩৫০ জন।  সালথায় ১ মন পেঁয়াজে মিলছে না ১ কেজি ইলিশ রূপসায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ৯০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ।  ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা দিলেন লাবনী সিদ্দিকী  মির্জাপুরে নিখোঁজের তিন দিন পর মিলল যুবদল নেতা ইউসুফের মরদেহ: কুমিল্লার মুরাদনগরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমান-এর আত্মার মাগফেরাত কামনায় শ্রীকাইল সরকারি কলেজে ইফতার মাহফিল ।  লালমনিরহাটে বড়ুয়া খাল পুনঃখননের শুভ উদ্বোধন করেন আসাদুল হাবিব দুলু এমপি ‎

নোয়াখালীতে মাকে হত্যায় ছেলেসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, January 25, 2023,
  • 247 Time View

নোয়াখালীতে মাকে হত্যায় ছেলেসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ইয়াছিন শরীফ অনিক,

স্টাফ রিপোর্টারঃ নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়নে নুরজাহান বেগম (৫৭) নামে এক নারীকে নয় টুকরো করে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতের ছেলেসহ ৭ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

 

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিলুফার সুলতানা এ রায় প্রদান করেন।

 

আসামিরা হলো, নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির হুমু (৩২), মোহাম্মদ নিরব (২৬), নুর ইসলাম (৩২), মো. আবুল কালাম (৩০), সুমন (৩৩), হামিদ (২৮) ও ইসমাইল হোসেন (৩০)।

 

আদালত সূত্রে জানাযায়, বিষয়টি নিশ্চিত করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গুলজার আহমেদ জুয়েল বলেন, এ হত্যার ঘটনায় প্রথমে নিহতের ছেলে হুমায়ুন কবির হুমা (৩২) বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার সূত্র ধরে পুলিশি তদন্তে হত্যার সঙ্গে সরাসরি সন্তানের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। একইসঙ্গে তার সাত সহযোগী মিলে এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রমাণ পায় পুলিশ।

 

তিনি আরো বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৭ আসামি উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় ২৭জনের স্বাক্ষী গ্রহণ করা হয়। আসামিদের মধ্যে ৫জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। একইসঙ্গে আটক নিহতের ছেলের বন্ধু নিরব ও কসাই নুর ইসলামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি, বালিশ, কোদাল ও নিহতের ব্যবহৃত কাপড় উদ্ধার করা হয়।

 

রায় ঘোষণার পর আদালত পাড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের স্বজনরা। মামলার ৩ নম্বর আসামি নুর ইসলামের মা আমেনা বেগম বলেন, আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। ঘটনার কয়েক দিন পর পুলিশ আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অন্যায়ভাবে জেলে পাঠিয়ে দেয়। আমরা ন্যায় বিচার চাই আদালতের কাছে।

 

নুর ইসলামের স্ত্রী মুনিয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর মানুষ, আমার একমাসের একটি সন্তান, এই সন্তান নিয়ে আমি কার কাছে যাবো। কে আমার সন্তানকে দেখবে। আমার স্বামী নির্দোষ, আমি ন্যায় বিচার চাই।

 

আরেক আসামি বেলাল হোসেনের ভাই বলেন, আমার ভাইয়ের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। সে এই ঘটনায় কোনভাবেই জড়িত ছিল না। আমরা গরিব মানুষ, হাইকোর্টেও যেতে পারবো না। এত টাকা কোথায় পাবো, কার কাছে যাবো। আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।

 

আসামি পক্ষের আইনজীবি এডভোকেট আবদুর রহমান বলেন, সরকার পক্ষ মামলা প্রমাণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই রায়ে আসামি পক্ষ সংক্ষুব্ধ। আসামি পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

 

উল্লেখ্য, নিহত ওই নারীর ছেলে তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত নারীর দুই সংসারের দুই ছেলে ছিল। আগের সংসারের ছেলে বেলাল তার মাকে জিম্মায় রেখে কয়েকজনের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নেয় সুদের ভিত্তিতে। তবে ঋণ রেখে দেড় বছর আগে বেলাল মারা যায়। এরপর ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য তার পরের সংসারের ভাই হুমায়ুনকে পাওনাদাররা চাপ প্রয়োগ করে। হুমায়ুন তার মাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এ সময় তার মা ১৩ শতক জমি বিক্রি করে এ ঋণ পরিশোধ করতে বলেন। হুমায়ুন জবাবে, মাকে জানান তার মালিকানাধীন ১৪ শতক ও বেলালের স্ত্রীর মালিকানাধীন ১০ শতক জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করা হোক। এতে তার মায়ের অসম্মতি ছিল। অন্যদিকে ওই নারী তার ভাই দুলালের কাছে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য সে তার ভাইকে প্রায় চাপ প্রয়োগ করত। এ কারণে হুমায়ুনের মামাতো ভাই কালাম ও মামাতো বোনের জামাই সুমন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এছাড়া তার প্রতিবেশী ইসমাইল ও হামিদেরও বেলালের জমির প্রতি লোভ ছিল। এজন্য তারাও হুমায়ুনকে প্রত্যক্ষ হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করে।

 

হুমায়ুন জবানবন্দিতে জানান, বেলালের স্ত্রীর জমি থেকে দুই শতাংশ হামিদকে ও বাকি আট শতাংশ ইসমাইলকে দেওয়ার মৌখিক সিদ্ধান্ত হয়। তারপর মায়ের জমি সমান পাঁচ ভাগ করে হুমায়ুন, নোমান, সুমন, কালাম ও কসাই নুর ইসলামকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ প্রতিশ্রুতিতে তারা গত ৬ অক্টোবর বাড়ির পাশে একটি ব্রিজের ওপর বসে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। পরে তারা রাতের কোনো এক সময়ে ঘরের মধ্যে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে নয় টুকরো করে পাওনাদারদের ধানক্ষেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে নিহতের ছেলে ও তার সহযোগীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 LatestNews
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট