শাকুর মাহমুদ, পটুয়াখালী
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে বিএনপি ছাড়া নির্বাচনমুখী দলের নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়ে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ব্যানার, ফেস্টুন, মিছিল মিটিং করে জনসমর্থনের জানান ও তদবির করছেন দলের প্রধান ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। ব্যতিক্রম নয় আমাদের পটুয়াখালী-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এই আসনটিতে ইতোমধ্যেই ২০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এ আসনে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড একেবারে শিথিল। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এ আসনে ধীরে ধীরে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়তে রাজপথে কিংবা ভোটের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। বিগত সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও জাতীয় নির্বাচনে আসবে কি আসবে না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। জাতীয় পার্টি সবসময় নির্বাচনমুখী দল। তারাও মনোনয়ন পত্র বিক্রি শুরু করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে জাতীয় পার্টি অবস্থান স্পষ্ট না করলেও বোঝা যাচ্ছে তারা নির্বাচনের দিকেই এগোচ্ছে। তবে এই আসনের বর্ষীয়ান নেতা, সাবেক এমপি আব্দুর রাজ্জাক খানের মৃত্যুর পরে তেমন কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ১৯৭৯, ৮৬ ও ৮৮ ও ৯৬ সালের নির্বাচন ছাড়া বাকি সবকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এই আসনটি আওয়ামী লীগের অন্যতম দুর্গ। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের আমলে দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে। যা, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজের নজরদারিতে বাস্তবায়ন হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থানের। বিশেষ করে অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের অঙ্গীকার নিয়ে উন্মোচন করেছেন দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা। আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য কুয়াকাটা'কে ঘিরে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়াও কলাপাড়া রাঙ্গাবালীতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যা বর্তমানে দৃশ্যমান। এর কারণে এই আসনে অনেক সুবিধাজনক ও শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। এই আসনে যাকে মনোনয়ন দেওয়ায় হোক না কেন, যদি আওয়ামীগে ঐক্য থাকে তাহলে তিনি'ই বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও আওয়ামী লীগের এই ঘাঁটিতে বার বার আঘাত হানতে চেষ্টা করেও তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বিএনপি।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ মহিব্বুর রহমান ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মাহবুবুর রহমান তালুকদার। এছাড়াও মনোনয়ন কিনেছেন সাবেক পৌর মেয়র, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান
এস এম রাকিবুল আহসান। বর্তমান সংসদ পত্নী, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ ফাতেমা আক্তার রেখা, সাবেক সাংসদ মরহুম আনোয়ার উল ইসলামের ছেলে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ হাবিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এলে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন তাকে মনোনয়ন না দিয়ে দানবীর ও মানবতার সেবক হিসেবে খ্যাত অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমানকে মনোনয়ন দিলে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মাঝে বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে অসহায় দুঃখী মানুষের পাশে থেকে ব্যাপক সুনাম অর্জন করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমালোচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জেলের কাছে সাগর ইজারা, নাম মাত্র প্রকল্পের নামে বিশেষ বরাদ্দের টাকা লুটপাট, মনোনয়ন বানিজ্য, দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোনঠাসার অভিযোগ রয়েছে। এসব দুর্নীতি বাণিজ্য করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও যুবলীগের সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই তিনি এবারও আশা করছেন তার যোগ্যতায় মনোনয়ন পাবেন এবং পুনরায় এমপি নির্বাচিত হয়ে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করবেন। যদি কোন ক্রমে তার মনোনয়ন বাতিল হয় তাহলে যাতে আসনটি তার হাতছাড়া না হয় সেই আশঙ্কায় তার সহধর্মিণীও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি মুরসালিন আহম্মেদ-এর মনোনয়ন সংগ্রহ করার কথা থাকলেও তাকে দেখা গেছে বর্তমান সংসদ মহিব্বুর রহমানের সাথে।
মাহবুবুর রহমান ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি একজন প্রজ্ঞাবান, দক্ষ, দূরদর্শী রাজনৈতিক ব্যক্তি। তার যেমন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালিতে সুনাম রয়েছে তেমনি দুর্নামও রয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে মরহুম সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার উল ইসলামের পরিবর্তে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, যদিও সে সময়ে আনোয়ার উল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন, পরবর্তীতে দলের প্রয়োজনে আবার নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়ান। মাহবুবুর রহমান তালুকদার ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে, তার সুষ্ঠু ও সুন্দর কর্মপরিকল্পনায় কলাপাড়া উপজেলা, রাঙ্গাবালি উপজেলা বিশেষ করে সাগরকন্যাখ্যাত কুয়াকাটা ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তিনি কর্মনিষ্ঠ এবং যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে পৌঁছেছিলেন অনন্য উচ্চতায়। পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তৃতীয়বারে পেয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। তাকে বলা হতো পটুয়াখালী-৪ আসনের উন্নয়নের রূপকার। তিনি এমপি-প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে