
স্টাফ রিপোর্টার : সোহেল রানা
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার ঢাকায় আনতে ট্রেনের সংখ্যা ও ইঞ্জিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সংগঠন। মঙ্গলবার রাজধানীর কমলাপুর আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় কনটেইনার পরিবহনের ট্রেন চলাচল কমে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কাস্টমস এজেন্টস, পরিবহন মালিক, শ্রমিকসহ হাজারো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সমাবেশে বক্তারা জানান, পূর্বে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দৈনিক অন্তত দুটি কনটেইনারবাহী ট্রেন কমলাপুর আইসিডিতে আসত, এখন সেটি নেমে এসেছে একটিতে। ফলে বন্দরে কনটেইনারের জট সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে ঢাকায় কনটেইনার সংকটে আমদানিকারকরা বিপাকে পড়ছেন।
ঢাকা সি এন্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডিতে পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, কাস্টমস এজেন্টস, ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি ও ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কনটেইনার পরিবহনের জন্য চারটি ইঞ্জিন সংযুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি। রেলওয়ে বর্তমানে এসব ইঞ্জিন যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করছে, ফলে কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকে এবং আমদানিকারকদের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হয়।”
ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আলম বলেন, “চীন থেকে জাহাজে কনটেইনার আসতে সময় লাগে ১৫-১৬ দিন, অথচ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে লাগে ২০-২৫ দিন। এটি অগ্রহণযোগ্য বিলম্ব। এতে আমদানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন, আইসিডি বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার মালিক সমিতি, এবং আইসিডি ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
নেতারা সাত দিনের মধ্যে ট্রেন ও ইঞ্জিন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।