1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
জরুরী নিয়োগ চলছে, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা,উপজেলা, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি বা সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

পাবনা-৩ : এক পরিবার, তিন প্রতীক ট্রাক, ঘোড়া ও ধানের শীষে বিভক্ত ভাই–বোন

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতাঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ (চাটমোহর–ভাঙ্গুড়া–ফরিদপুর) আসনে ব্যতিক্রমী এক রাজনৈতিক চিত্রের জন্ম দিয়েছে একই পরিবারের তিন ভাই–বোনের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান। বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তারা তিনটি ভিন্ন প্রতীকে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এই মনোনয়ন ঘিরেই প্রয়াত বিএনপি নেতা হাজী আক্কাছ আলী মাস্টারের সন্তানদের মধ্যে ভিন্নমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার তিন সন্তান—বড় ছেলে হাসানুল ইসলাম রাজা, ছোট ছেলে মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা এবং বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা—তিন ভিন্ন রাজনৈতিক মেরুতে অবস্থান নিয়েছেন।
হাসানুল ইসলাম রাজা জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা এবং পরিচিত সমাজসেবক। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হলে রাজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন এবং পরে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন।
অন্যদিকে ছোট ভাই মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘোষিত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিক মামলায় জেলও খেটেছেন তিনি। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচার চালালেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় তার অনুসারীরা প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় হীরা বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি আলহাজ্ব কেএম আনোয়ারুল ইসলামের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেন এবং প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
পরিবারের বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা নব্বইয়ের দশক থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল হয়ে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাবাসও করেছেন। এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও দলীয় সিদ্ধান্তের পর তিনি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের পক্ষে অবস্থান নেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি প্রার্থী তুহিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছেন এবং বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছেন।
একই পরিবারের তিন ভাই–বোনের এমন ভিন্ন অবস্থান চাটমোহরসহ পাবনা-৩ আসনের রাজনীতিতে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করেছে। এতে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে প্রকাশ্য দ্বিধাবিভক্তির চিত্রও সামনে এসেছে।
এদিকে পাবনা-৩ আসনে অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আলী আছগার (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির মীর নাদিম মোহাম্মদ ডাবলু (লাঙ্গল), গণফোরামের সরদার আশা পারভেজ (উদীয়মান সূর্য), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. মাহবুবুর রহমান জয় চৌধুরী (ঈগল) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল খালেক (হাতপাখা)।
সব মিলিয়ে পাবনা-৩ আসনের নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, পারিবারিক রাজনৈতিক বিভাজনের কারণেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট