মো. হাইউল উদ্দিন খান,গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের সীমানা ঘেঁষে ঢাকার উত্তরখান থানার উজামপুর মৌজায় পূর্বশত্রুতার জেরে চার বিঘা ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী লোকমান ও বায়েজিদ গংদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত তিন থেকে চারটি পরিবারের এক বছরের খাদ্য সংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রোববার (১ মার্চ) কোনো এক সময় উজামপুর মৌজার ধানি জমিতে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ। বিষের প্রভাবে কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো ক্ষেতের ধান গাছ পুড়ে যাওয়ার মতো শুকিয়ে যায়। এতে কৃষকদের কয়েক মাসের শ্রম ও আশা এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতার অত্যাচারে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলা ও হয়রানির মাধ্যমে তাদের এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের দাবি, আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী হিসেবে এলাকায় দাপট দেখালেও বর্তমানে তারা নিজেদের বিএনপি পরিচয় দিয়ে আবারও বিভিন্নভাবে ক্ষতি করে যাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, এর আগেও একই কায়দায় গত বছর এক বিঘা জমির সবজি ক্ষেত নষ্ট করা হয়েছিল। এবারের ঘটনায় চার বিঘা ধানক্ষেত ধ্বংস হওয়ায় তাদের এক বছরের খাবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিন্দান এলাকার ফিরুজ, আবুল ও ফজলু মাতবর গং গত বছর ঢাকা আদালতে মামলা ও উত্তরখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। সর্বশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার উত্তরখান থানায় আবারও একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিবাদীরা কৌশলে পূবাইল থানায় উল্টো মারধরের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন বায়েজিদ বলেন, তাদের সঙ্গে বিভিন্ন মারামারি ও মামলা থাকতে পারে, তবে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের মতো ঘটনা তারা ঘটাননি।
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিক জানান, “বাদী পক্ষের একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। সরেজমিনে তদন্তে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে পূবাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, বায়েজিদ নামে একজন মারধরের অভিযোগ দিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। সমাধান না হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।