
সম্প্রতি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘খবরের দেশে’ “সহকারী প্রকৌশলী থেকে শতকোটির মালিক! গণপূর্তে বদরুল আলম খানের উত্থানের রহস্য” শিরোনামে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর এবং একপাক্ষিক তথ্যে ভরপুর বলে দাবি করেছেন সাভার গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই অনুমাননির্ভর, যাচাইহীন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ছাড়াই প্রকাশিত—যা প্রচলিত সাংবাদিকতার নীতিমালা ও সংবিধানস্বীকৃত ন্যায্যতার পরিপন্থী।
বদরুল আলম খান বলেন, তিনি ২০০৩ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন সম্পূর্ণ বৈধ প্রক্রিয়ায় এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার, কমিশন গ্রহণ কিংবা অবৈধ সম্পদ অর্জনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সপক্ষে কোনো আদালতস্বীকৃত রায়, দুদকের চূড়ান্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন কিংবা আইনগত সিদ্ধান্ত নেই।
প্রতিবেদনে তাঁকে ‘দুদক চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ’ বলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করার শামিল।
তিনি আরও বলেন, “আমাকে শত কোটি টাকার মালিক আখ্যা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এই অঙ্ক নির্ধারণের কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি, আর্থিক নিরীক্ষা কিংবা রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রতিবেদন প্রতিবেদনে নেই। এটি স্পষ্টতই চরিত্রহননমূলক প্রচেষ্টা।”
বদরুল আলম খান দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে বিতর্কিত করতে এবং পেশাগতভাবে হেয় করতে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন করছে। তিনি বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করার অধিকার সংরক্ষণ করছেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, “দেশের একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমি আইন ও বিধির বাইরে কোনো কাজ করিনি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বানিয়ে সংবাদ প্রকাশ গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তোলে।”
এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করার নির্দিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে উপস্থাপন করা অনভিপ্রেত।
বদরুল আলম খান সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং ন্যূনতম পেশাগত ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।