
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণপূর্ত অধিদপ্তর যেনো ফোকলা হয়ে যাচ্ছে? আর অভিযোগের তীর গিয়ে ঠেকছে ই/এম সার্কেল-২, ঢাকার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলামের দিকে। নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে টানা প্রায় আট বছর একই সার্কেলে দায়িত্ব পালন, আর সেই সময়েই একের পর এক দরপত্র, বিল নিষ্পত্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে ওঠে অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দপ্তরের একাধিক সূত্রের দাবি, দীর্ঘ সময় একই কর্মপরিসরে অবস্থান করে প্রশাসনিক ও কারিগরি ক্ষমতার সমন্বয়ে একটি শক্ত প্রভাববলয় তৈরি করা হয়, যা পরবর্তী সময়েও প্রভাব বিস্তার করে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বছরের পর বছর টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্যাঁচ কষে, পদ্ধতির ব্যাখ্যা বদলে, পছন্দের বলয় তৈরি করে এমন এক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে, যেখানে নিয়ম আছে কাগজে, আর বাস্তবে চলে সিন্ডিকেটের অঙ্ক।
এলটিএমের জায়গায় ধারাবাহিক ওটিএম এই বদলের ভেতরেই নাকি লুকিয়ে ছিল প্রকৌশলীর লঙ্কাকাণ্ড। চলতি ও পূর্ববর্তী অর্থবছরের একাধিক দরপত্র: Id.no.1063722, 1063677, 1061251, 1061212, 1060301, 1059111, 1059027, 1059011, 1059029, 1042941, 1054362, 1054337, 1049804, 1044579, 1044137, 1042587, 1042493, 1042544, 1042569, 1042590, 1042505, 1042398, 1040443, 1040404, 1033814, 1032572, 1032547, 1032298, 1031176, 1026483, 1022366, 1018237, 1015515, 1013329, 1008958, 1004939
নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুন মাসের দরপত্রগুলো: Id.no.998843, 998764, 998141, 997790, 998122, 997838, 997808, 997821, 997146, 996632, 996247, 996241, 996177, 995687, 995849, 995759, 995603, 994722, 994739, 994315, 994306, 994300, 994302, 994186, 994197, 994175, 994207, 994189, 994058, 994168, 994162, 994084, 993933, 994040, 993945, 993905, 993885, 993150, 992984, 992971, 992978, 992995, 992949, 992853, 992844, 992839, 992848 নিয়েও একই অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিযোগিতার মাঠ আগেভাগেই ছোট করে দেওয়া হতো, ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রেট কোট নিয়ন্ত্রণ করা হতো, আর কিছু উচ্চমূল্যের কাজ ৮-১০ দিনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে সমাপ্ত দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হতো। এ যেনো এক প্রাতিষ্ঠানিক রক্তক্ষরণ। কাগজে উন্নয়ন, বাস্তবে হিসাবের ফাঁক এভাবেই কি ফোকলা হয়ে যাচ্ছে গণপূর্তের ভেতরটা?
রাজনৈতিক রং বদলের অভিযোগও কম নয়। সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সময় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন, পরে ক্ষমতার পালাবদলে নতুন বলয়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা এসবই ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ধরে রাখার কৌশল বলে দাবি অভিযোগকারীদের। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো আদালতের রায় নেই, এ বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
সম্পদের প্রশ্নও ঘুরে ফিরে আসছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সম্পত্তি, ব্যাংকে বিপুল সঞ্চয়, জেলার বাইরে জমি, এসব নিয়ে নানা তথ্য ভাসছে। এতে ভেতরে ভেতরে ফাঁপা হয়ে যাচ্ছে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান?
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এখানেই শেষ নয়… চলবে…
৮ বছরের নির্বাহী প্রকৌশলী, একই সার্কেলে প্রভাব,
দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে গণপূর্ত অধিদপ্তর | পর্ব-০১
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় দরপত্র ব্যবস্থাপনায় এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা কার্যত প্রতিযোগিতার পরিসর সংকুচিত করে। এলটিএমের পরিবর্তে ধারাবাহিকভাবে ওটিএম পদ্ধতি প্রয়োগ, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ঘনঘন কাজ পাওয়া, এবং উচ্চমূল্যের কাজ দ্রুত সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ সামনে আসে। চলতি ও পূর্ববর্তী অর্থবছরের একাধিক দরপত্র, Id.no.1063722, 1063677, 1061251, 1061212, 1060301, 1059111, 1059027, 1059011, 1059029, 1042941, 1054362, 1054337, 1049804, 1044579, 1044137, 1042587, 1042493, 1042544, 1042569, 1042590, 1042505, 1042398, 1040443, 1040404, 1033814, 1032572, 1032547, 1032298, 1031176, 1026483, 1022366, 1018237, 1015515, 1013329, 1008958, 1004939 নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন রয়েছে।
২০২৩–২৪ অর্থবছরের জুন মাসের দরপত্র- Id.no.998843, 998764, 998141, 997790, 998122, 997838, 997808, 997821, 997146, 996632, 996247, 996241, 996177, 995687, 995849, 995759, 995603, 994722, 994739, 994315, 994306, 994300, 994302, 994186, 994197, 994175, 994207, 994189, 994058, 994168, 994162, 994084, 993933, 994040, 993945, 993905, 993885, 993150, 992984, 992971, 992978, 992995, 992949, 992853, 992844, 992839, 992848 নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতিযোগিতার মাঠ আগেভাগেই ছোট হয়ে যেত। দর আহ্বানের শর্ত ও ব্যাখ্যা এমনভাবে নির্ধারণ করা হতো, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ সুবিধাজনক হয়। কিছু ক্ষেত্রে ৮-১০ দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল নিষ্পত্তির অভিযোগও রয়েছে।
দীর্ঘ আট বছর একই সার্কেলে দায়িত্ব পালন এ বিষয়টিও আলোচনায়। সরকারি বদলির নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর পর বদলি হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান প্রভাববলয় বিস্তারে সহায়ক হয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। যদিও দপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি।
রাজনৈতিক প্রভাবের গুঞ্জনও রয়েছে। সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সময় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার আলোচনা ছিল এমন দাবি কিছু ঠিকাদারের।
সম্পদের বিষয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য সঞ্চয়, জেলার বাইরে জমি এসব নিয়ে নানা তথ্য ঘুরছে প্রশাসনিক অঙ্গনে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।
চলবে…