1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
জরুরী নিয়োগ চলছে, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা,উপজেলা, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি বা সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

প্রিন্সিপ্যাল সংকটে চাটমোহর মহিলা কলেজ ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা, কার্যক্রম স্থবির

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

 

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা :

পাবনার চাটমোহর মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ সংকটকে কেন্দ্র করে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কেউ দায়িত্ব না পাওয়ায় টানা তিন দিন ধরে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত চাটমোহর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. শরীফ মাহমুদ সরকার সঞ্জুর চাকরির মেয়াদ গত ৩১ জানুয়ারি শেষ হয়। তবে তিনি দাবি করেছেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাড়িতে অবস্থান করলেও সেখান থেকেই কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে পরিস্থিতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা অধ্যক্ষ মো. শরীফ মাহমুদ সরকার সঞ্জুর অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। পাশাপাশি প্রাক্তন অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন দাখিল করেন তারা।

শিক্ষক ও স্টেকহোল্ডারদের অভিযোগ, কৌশলে ও অনৈতিকভাবে অধ্যক্ষ তার অনুগত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি এডহক কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে নিজের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করিয়েছেন। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক-কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষকরা মনে করছেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রাক্তন অধ্যক্ষ ক্ষমতালোভী ও অর্থলোভী আচরণ করছেন, যা কলেজের শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। চলমান নির্বাচনী পরীক্ষা ও প্রথম সাময়িক পরীক্ষাও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে অধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষকবৃন্দের স্নায়ুযুদ্ধ ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ এডহক কমিটির সদস্য ডা. আব্দুল মজিদ বলেন, আমরা ছয় মাস মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিলাম। পরে জানতে পারি তিন মাসের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দালিলিক প্রমাণের বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল।

অপর এডহক কমিটির সদস্য ও কলেজের শিক্ষক শ্রী তন্ময় কর্মকার তনু জানান, অধ্যক্ষ তার কাছে স্বাক্ষর চাওয়ায় তিনি ওই আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া ২৮ জন শিক্ষক জানান, বর্তমানে কলেজে ১৫ থেকে ১৭ জন শিক্ষক অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখেন। অথচ সাবেক অধ্যক্ষ মো. শরীফ মাহমুদ সরকার সঞ্জু চরম অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পদ আঁকড়ে রাখার অপচেষ্টা করছেন। তারা প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. শরীফ মাহমুদ সরকার সঞ্জু বলেন, এক থেকে দেড় বছর আগে কলেজের শিক্ষকরা আমাকে অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। অনেকে বিষয়টি না বুঝেই এখন অভিযোগ করছেন। তারা যদি অন্যায়ভাবে অফিসে তালা দেয়, সেখানে আমার কিছু বলার নেই। আমি অসুস্থ থাকায় বাড়ি থেকেই কলেজের কাজ পরিচালনা করছি। তালা দেওয়া থাকায় এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, অধ্যক্ষের ৯০ দিনের মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আগামী দুই এক দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠাবে বলে জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট