
মো: মিজানুর রহমান (পলাশ), ফেনী জেলা প্রতিনিধি, ফেনী।
ফেনীতে মুক্তিপণ না পেয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে হত্যা করে মরদেহ স্কুলব্যাগে পাথর ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়ার দায়ে তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ.এন.এম মোরশেদ খান। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন–আশ্রাফ হোসেন তুষার, মোবারক হোসেন ওয়াসিম ও ওমর ফারুক রিপাত। এদের মধ্যে আশ্রাফ ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে এবং ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মোবারক ফেনী পৌরসভার বারাহিপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। আর রিপাত লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার কামালপুর এলাকার দুদুমিয়া বাড়ির মো. শাহ আলমের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের পিপি মেজবাহ উদ্দিন খাঁন। তিনি জানান, মামলার রায়ে তারা সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে সে প্রত্যাশাও করছেন তারা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার শহরের আতিকুল আলম সড়কে কোচিং ক্লাস শেষ করে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত। নামাজ শেষে ব্যবসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত তুষার ও তার সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করেন। পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ রেল লাইনের পাশে ডোবায় ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। মরদেহ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে সেজন্য ওই শিক্ষার্থীর স্কুলব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেন তারা।
এ ঘটনায় নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ গত ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। দুই দিন ধরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে নাশিতের বাবাকে কল করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। পরে নিহতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ পুলিশকে তুষার নামে এক কিশোরকে সন্দেহের কথা জানান। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাতে তুষারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলে তার দেওয়া তথ্যমতে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুল ব্যাগসহ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিহত শিক্ষার্থী নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সঙ্গে ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।