ওসমান গনি
স্টাফ রিপোর্টার
দেশের নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০:৪০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ পাঠানো হবে। ফলে উপকারভোগীরা সহজেই ঘরে বসে ভাতার টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনসহ সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যেন সবার ঘরে পৌঁছায়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রাখা হয়নি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচি নারী ক্ষমতায়নের পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য পাইলট প্রকল্পে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের শুরুতে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে দারিদ্র্য সূচক বিশ্লেষণ করে পরিবারগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।