স্টাফ রিপোর্টার : সোহেল রানা
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের ভয়াবহ দুর্ঘটনার চার মাস পর অবশেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়্যিবা মেহজাবিন (১১)। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
ছাড়পত্রের সময় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দিন জানান, মেহজাবিনের শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ ছিল। শুরু থেকেই তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা এবং জটিল চিকিৎসা প্রয়োজন হওয়ায় হাসপাতালের একাধিক বিভাগকে তাকে নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। অন্য মানুষের শরীর থেকে নেওয়া চামড়া প্রতিস্থাপন করে তার চিকিৎসা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেহজাবিনের শরীরে মোট ৭২ বার ড্রেসিং করা হয়েছে এবং ৬ বার স্কিন গ্রাফটিং (চামড়া প্রতিস্থাপন) করতে হয়েছে—যার প্রতিটি ধাপই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েক দফায় তাকে আইসিইউতে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
ডা. নাসির উদ্দিন আরও জানান, এই দুর্ঘটনায় দগ্ধ আরও ৩৫ জন শিক্ষার্থী এরই মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
মেয়ের সুস্থতা ফিরে পাওয়া মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে মেহজাবিনের মা শারমিন ইয়াসমিন বলেন,
“মেয়েকে নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের ট্রমার মধ্যে ছিলাম। চিকিৎসকরা আমাদের আশার আলো দেখিয়েছেন। তারা অনেক চেষ্টা করেছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারিতে সে আবার স্কুলে যেতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন,
“গত পরশুদিন ওর ক্লাস পার্টি ছিল। সে আমাকে বলছিল—‘আম্মু, আমার ক্লাস পার্টিতে যাব। ডাক্তারকে বলো, আমাকে একটু ছুটি দিতে।’”
মেহজাবিনের বাবা মো. জহুরুল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি তুরাগের নলভোগ এলাকায়। মাইলস্টোন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ১২৮ দিনের লড়াই শেষে মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় বাসায় নিয়ে যেতে পারায় পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও সবার প্রতি।