মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ বেলায়েত হোসেন।
মাদারীপুরে মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে স্বজনদের মাথা কেটে হাসপাতালে ভর্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা সাজিয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে আনে তারা নিজেরাই।
যে সময়ে ঘটনা হিসেবে বর্ণনা দেয়া হয়েছে তারও দেড় ঘন্টা পরেও তাদের সিসিটিভি ফুটেজে স্বাভাবিকভাবে হাটতে দেখা গেছে বলেও জানা যায়। পরে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ঘটনার সত্যতা না পাওয়ায় মামলা নেয়নি পুলিশ।
পুলিশ জানায় ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি তাই তারা আর থানায় আসেনি। তবে কোর্টে মামলা দিতে হাসপাতালের সনদের পায়তারা করছে বলেও রয়েছে অভিযোগ। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান ভুক্তভোগী।
জানা যায়, মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বালিগ্রাাম ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামে চাঁদা দাবি করে না পেয়ে রক্তাক্ত জখম করায় কয়েকজনকে আসামি করে মাদারীপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন শামচুল হক ঢালি নামক এক বৃদ্ধ।
সেই মামলার অন্যতম আসামী একই এলাকার সুলতান খানের ছেলে শহিদুল খানকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানোর পরে প্রতিপক্ষ ফরহাদ ঢালী ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়।
পরে মামলা দিয়ে ফাঁসাতে মারধোর ও ভাঙচুড়ের একটি ঘটনা সাজিয়ে পুলিশকে খবর দেয় ফরহাদ ঢালীর লোকজনে। সে ঘটনায় মনি ও তুলিয়া নামে দুজন আহত হয়েছে বলেও অভিযোগ করে ফরহাদ ঢালীর লোকজন।
তবে ফরহাদ ঢালীর স্বজন মনি ও তুলিয়ার মাথা ব্লেড দিয়ে কেটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগ শামচুল হক ঢালীর। তবে যে সময়ে ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয়েছে তারও দেড় ঘন্টা পরেও মনি ও তুলিয়াকে স্বাভাবিকভাবে হাটতে দেখা যায় সিসিটিভি ফুটেজে।
পুলিশ এসে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে চলে যায়। স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল এ ষড়যন্ত্রে মদদ দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শামচুল হক ঢালীর ছেলেরা রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে প্রবাসে থাকায় বৃদ্ধ শামচুল হক ঢালী ও তার পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে চরম আতংক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে।
এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে সমাধান করা না হলে বড় ধরনের ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাই প্রশাসনের কাছে সার্বিক নিরাপত্তার দাবি ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, দুই পরিবারের দ্বন্দ দির্ঘ দিন ধরে চলছে। আস্তে আস্তে বিষয়টি জটিল আকার ধারন করছে ও স্থানীয় রাজনীতির কবলে পড়ে ভয়াবহ আকারে রূপ নিচ্ছে। প্রশাসনের উচিৎ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া না হয় বিগত দিনের মত অনেক কিছু ঘটতে পারে। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই পরিবেশটা শান্ত রাখতে তারা যেন সঠিক পদক্ষেপ নেন।
ভুক্তভোগী টুম্পা আক্তার বলেন, একই বংশের লোক আমরা। শামচু ঢালীর বাড়িতে আসা যাওয়ার কারনে আমাকে মারধোর করেছে ফরহাদ ঢালীর লোকজন। আমি এর বিচার চাই।
ভুক্তভোগী শামচুল হক ঢালী বলেন, আমার কাছে চাদা দাবি করছে । আমি না দেয়ায় আমাকে মারধোর করে জখম করেছে তাই আমি মামলা করেছি। সেই মামলায় একজন জেলে আছে। সেই মামলার পাল্টা মামলা সাজাতে মনি ও তুলিয়া নামে দুজনের মাথা কেটে হাসপাতালে ভর্তি করেছে হাসপাতালের সার্টিফিকেট এনে আমাকে ৩২৬ ধারায় মামলা দিবে।
যে ঘটনার কথা তারা বলে সব মিথ্যা। এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। সিসিটিভি ফুটেজে সব আছে। যে সময়ে আমি হামলা করেছি বলে তাদের অভিযোগ তারও দেড় ঘন্টা পরেও তারা সুস্থভাবে হাটাচলা করছে সব ফুটেজে আছে। আমি প্রশাসনের সাহায্য চাই যাতে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানী না করা হয়। আমি এ দ্ব›দ্ব থেকে মুক্তি চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফরহাদ ঢালীর সাথে কথা বলতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) হাসানুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তদন্ত করে ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। হয়তো সেই কারনেই কেউ লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। কোর্টে মামলার বিষয়ে কিছু জানা নেই।