
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
“দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি” – এই যুগোপযোগী স্লোগানকে সামনে রেখে মুরাদনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর আয়োজিত জাতীয় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ২০২৫ গতকাল ব্যাপক উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রাণিসম্পদ খাতে বর্তমান সরকারের সাফল্য এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা জনগণের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে দেশীয় প্রাণীর জাত সংরক্ষণ অপরিহার্য। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে খামারিরা উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করতে পারেন।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খাঁন খামারিদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু এবং মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান নিরাপদ প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
৩০টি স্টলে ছিল প্রাণীর
প্রদর্শনীর মাঠে মোট ৩০টি স্টল বসেছিল, যা মুরাদনগরের ইতিহাসে এই ধরণের আয়োজনে অন্যতম বৃহৎ। প্রতিটি স্টল খামারিদের যত্ন ও দক্ষতার প্রমাণ বহন করে। গবাদি পশু: উন্নত জাতের গাভী, বিশাল আকৃতির ষাঁড় এবং সুস্থ বাছুরের প্রদর্শনী ছিল মূল আকর্ষণ। ছাগল ও ভেড়া: ব্লাক বেংগল, যমুনা পাড়ি এবং তোতাপুড়ি ছাগলের পাশাপাশি গাড়ল জাতের ভেড়ার উপস্থিতি নজর কাড়ে। পক্ষীশালা: সৌখিন কবুতর ও পাখিপ্রেমীদের জন্য ছিল বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি ও দেশীয় সৌখিন পাখি, হাঁস-মুরগি। প্রযুক্তি ও ঔষধ: আধুনিক ডেইরি যন্ত্রপাতি, পশুখাদ্যের নতুন ফর্মুলা এবং ভেটেরিনারি ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো তাদের সর্বশেষ পণ্য ও পরিষেবা নিয়ে উপস্থিত ছিল।
প্রদর্শনী চত্বরে ছাত্র-ছাত্রী, খামারি এবং সাধারণ জনতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপুল সংখ্যক দর্শক মনোযোগ সহকারে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। অনেকেই স্টলগুলোতে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে প্রশ্ন করেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে পশু পালনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেন। শিক্ষানবিশদের জন্য এটি ছিল এক হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সফলভাবে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর মধ্যে ৫টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা স্টলদাতাদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এই পুরস্কার খামারিদের আগামীতে আরও উন্নত জাতের পশু পালনে উৎসাহিত করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।