
মোঃ রেজাউল করিম (ব্যুরো চীফ কুমিল্লা)
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চুলুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা কামরুল ইসলাম শাহীনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা অফিস, থানা ও নির্বাচন অফিসে প্রভাব খাটিয়ে দালালি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি অর্থ বাণিজ্য করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, কামরুল শাহীন নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে দিনের অধিকাংশ সময় কাটান উপজেলা শিক্ষা অফিসে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি, মেডিকেল ছুটি অনুমোদন, ভবিষ্যৎ তহবিল (জিপিএফ) থেকে অগ্রিম উত্তোলন এবং নতুন শিক্ষকদের পছন্দের জায়গায় পদায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। তাদের অভিযোগ, তার প্রভাব ছাড়া অনেক সময় শিক্ষা অফিসে সাধারণ শিক্ষকদের কোনো ফাইলই এগোয় না।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মুরাদনগর থানায়ও তার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। মামলার তদবির, আসামি গ্রেফতার বা অর্থের বিনিময়ে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নিয়ে কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘিরেও তার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি ও সংশোধনের কাজ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও তুলেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়েও তাকে নিয়মিত স্কুলে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে চুলুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা কামরুল ইসলাম শাহীন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে এসব অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”