সাখাওয়াত হোসেন (তুহিন)
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রায় তিন হাজার বিঘা কৃষি জমি ত্রিশ বছর যাবত পানির নীচে। এই নিয়ে কৃষকের মাঝে চলছিল কষ্টের হাহাকার । জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকা জমিগুলো হলো উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের রানীমুহুরী, বল্ভদী, কাচারীকান্দি, বড়িয়াকুড়ি, নোয়াকান্দি, তিতারকান্দি ও রতননগর গ্রামের।
জমিগুলোকে চাষাবাদযোগ্য করতে রবিবার দুপুরে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের রানীমুহুরী স্কুল মাঠে কৃষকদের সাথে আলোচনা সভা করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম সরকার এম পি।
তিনি বলেন, “যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একতোলা জমিও যেন চাষাবাদের বাহিরে না থাকে। সেখানে তিন হাজার বিঘা জমি ত্রিশ বছর পরে আছে। আমি কাজটা হাতে নিয়েছি। কৃষকরা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে তিন হাজার বিঘা জমিতে ফসল ফলাতে পারেন সেই ব্যবস্থা করবো। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খাঁন পাপ্পু, উপজেলা প্রকৌশলী রায়হানুল আলম চৌধুরী, জাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ সওকত আহমেদ, ২ শতাধিক কৃষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, প্রায় ত্রিশ বছর যাবত ছয় শত কৃষকের ৩ হাজার বিঘা জমি পানির নীচে তলিয়ে আছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসনে কেউ এগিয়ে আসেনি। বিশাল এলাকা জুড়ে বাঁধের কারনে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা জমিগুলো চাষাবাদ করতে পারছেন না। ফলে সাত গ্রামের শত শত কৃষক অভাব অনটনের সাথে লড়াই করছেন। বড়িয়াকুড়ি গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন (৫০) বলেন, এই বাঁধের ভীতর আমার ১৪ বিঘা জমি আছে এরপরেও গতকাইল আমি ১০ কেজি চাইল কিন্না আনছি। সারা বছর পানি লাইগ্গা থাহে জমিনডিত এই করনে জমিনডিত কোনো কাম করন যায়নয়।পুলা মাইয়া লইয়া আমি সহ যারার জমিন বাদের বিতরে পরছে তারা সবাই খুব কষ্টে জীবন পার করতাছি।
কৃষক আবদুল বারেক (৬০) জানান, এই জলবদ্ধতা ত্রিশ বছর অইবো, আমার ৫ বিঘা জমি এক্কেরে অকেজো হইয়া পইড়া রইছে। এক শতক জায়াগাও আমরা ব্যাবহার করতাম পারিনা। চাষাবাস করতে না পাইরা সারাবছর আমাদে চাইল কিন্না খাওয়ন লাগে।
এছাড়াও জলাবদ্ধতা থেকে কৃষি জমি উদ্ধার করতে শতো শতো কৃষক একত্রিত হয়ে এমপি বরাবর দাবি জানান।
১৭ নং জাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ সওকত আহমেদ বলেন, ত্রিশ বছর যাবত প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেনা। বিগত দিনের এমপিরা এ বিষয়টি নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান সাংসদ পরিদর্শনে আসছেন। স্যার যদি এই সমস্যা সমাধান করে দেন আমরা ইউনিয়নবাসী কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ থাকবো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খানঁ পাপ্পু বলেন, ত্রিশ বছর ধরে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমিতে কোন চাষাবাদ হয়নি। বিভিন্ন কারণে এটা অনাবাদি রয়েছে। কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা আবার কিছু জায়গায় খাল খননের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আমরা একটা সার্ভে প্লান করে এমপি মহোদয়ের কাছে দিবো। চেষ্টা করবো আগামী মৌসম থেকে যেন এখানে চাষাবাদ শুরু করতে পারি।