শাহারুখ আহমেদ (স্টাফ রিপোর্টার):
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সিস্টেম লস কমিয়ে রাজস্ব বাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রনাধীন দেশে ৮০টি পল্লী বিদুৎ সমিতি রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে সারাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামসহ শহর এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সিস্টেম লস কম হওয়ায় দেশের সেরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কে মডেল সমিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এই অর্জন নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সকল প্রকার গ্রাহকের এ প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও বন্দর উপজেলা এবং রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ গঠন করা হয়। এ সমিতির আওতায় ২৯শ’ কিলোমিটার বিদ্যুতায়িত লাইন স্থাপন করা হয়। এখানে ৩৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পিক চাহিদা রয়েছে। ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭২জন গ্রাহকের মধ্যে প্রি পেইড গ্রাহক ২ লাখ ৮শ’ ১৬জন। শিল্প গ্রাহক ৩ হাজার ৯শ’ ৩২জন। এছাড়াও ৩৩ কেভি গ্রাহক ৬০জন। দুটি ইকোনমিক জোন, পাঁচটি শিল্প হাব, দুটি বিসিক শিল্প নগরী রয়েছে। তার মধ্যে ১৪ হাজার ৮শ’ ২জন বানিজ্যিক গ্রাহক। একটি আদর্শ গ্রাম ও ১ হাজার ২শ’৯৮ অফ গ্রীড এলাকায় গ্রাহক রয়েছেন।
সূত্র জানায়, গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বিদ্যুৎ ক্রয়ের পরিমাণ ১৯৪,৮২,৩৪,২৭৯ কিলোওয়াট ঘন্টা। বিদ্যুৎ বিক্রয়ের পরিমাণ ১৮৮,৭৪,৬০,১৩৩ কিলোওয়াট ঘন্টা। তার মধ্যে সিস্টেম লস মাত্র ৩.১২%। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিক্রয় করা হয় ১৬শ’ কোটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫শ’ ১০ টাকা। বিদ্যুৎ বিল আদায় ১৫শ’ ৯৯ কোটি ৪৭ লাখ, ৫৪ হাজার ১শ’ ৬৪ টাকা। তার মধ্যে বিদ্যুৎ বিল আদায়ের হার ৯৯.৬৮%। এ সমিতির গত অর্থ বছরে ৩.৬৫% সিস্টেম লসের টার্গেট থাকলেও অর্জন হয়েছে ৩.১২% এবং বকেয়া মাসের টার্গেট ছিল ১.২০ মাস। অর্জন হয়েছে .৮৭ মাস।
এদিকে দেশের সকল বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সিষ্টেম লস শতকরা ৮ ভাগের উপরে থাকলেও একমাত্র নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এ সিস্টেম লস শতকরা ৩.১২ ভাগ। ফলে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কে দেশের সেরা সমিতি মনে করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর ডিজিএম ( টেকনিক্যাল) মো. গোলাম কাউসার তালুকদার বলেন, এ সমিতির আওতায় বন্দর উপজেলায় বিদ্যুৎতায়নের একটি আদর্শ গ্রাম করা হয়েছে। সেখানে যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। আমাদের গ্রাহক সেবা সর্বোচ্চ দেওয়া চেষ্টা করে যাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মাশফিকুল হাসান বলেন, এ সমিতির আওতায় সকল গ্রাহকের সহযোগিতা ও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্ম দক্ষতায় সিস্টেম লস কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। আগামীতে উন্নত গ্রাহক সেবার লক্ষ্যে ১৩২ কেভি লাইন দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে দুটি গ্রুপের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও মেঘনা গ্রুপকে ২৩০ কেভি সংযোগ দেয়ার বিষয়েও কাজ করছি। ফলে এ সমিতির রাজস্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। সিষ্টেম লস আগের চেয়ে আরও কমে আসবে।