রূপসা প্রতিনিধি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৪v আসনে বিজয়ী নৌকার প্রার্থী ৩ নং নৈহাটি ইউনিয়নে প্রায় ১৫০০০( পনের হাজার) ভোট পেয়েছেন তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী কেটলি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৪৫০০(চার হাজার) ভোট । কিন্তু পরিতাপের বিষয় উক্ত ইউনিয়নের ফলাফল এর সাথে সামন্তসেনা (৯ নম্বর) ওয়ার্ডের ফলাফল ছিল নৌকা ৬৪৯ ভোট এবং কেটলি ৩৭৩ ভোট অর্থাৎ ৫০ ভাগের বেশি মানুষ নৌকার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। রুপসা উপজেলার সর্বোচ্চ সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতার বসবাস এই গ্রামে তাই এই ফলাফল অপ্রত্যাশিত। কেন এমনটা হলো? দলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায় নৌকা প্রতীকেের প্রার্থী নয় শুধু একটি পরিবারের প্রতি জমানো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আসলে একটি পরিবারের কাছে জিম্মি রূপসা উপজেলার ৩ নং নৈহাটি ইউনিয়ন এর অন্তগত সামন্তসেনা গ্রামের আওয়ামী লীগ।ফকির পরিবারের সদস্য আঃ মজিদ ফকির সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য,তার আপন ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য,তার স্ত্রী আফরোজা সুলতানা ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি,চাচাতো ভাই ফ.ম আঃ সালাম বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এক চাচাতো ভাই আজমল ফকির ( করোনাকালীন সময়ে এমপির বিশেষ প্রতিনিধি) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ,চাচাতো ভাই ফম অহিদুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা,আরেক চাচাতো ভাই ফ ম আইয়ুব আলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, ফম আইয়ুব আলীর শালা মহিউদ্দিন মানিক ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি, চাচাতো ভাই হাসান ফকিরের স্ত্রী রচনা ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি,তাদের ভাইপো সাকিব, জনি,রায়হান ছাত্র লীগের নেতা,এ ছাড়াও তাদের পরিবারের প্রায় সকলেই কোন না কোন পদে আছেন ।মোটামুটি শুধু রাজনৈতিক পদন ভাইটাল সব পদ-পদবী একই পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় নেতা-কর্মীরা হতাশ ৷ বর্তমান এমপি জনাব আঃ সালাম মুর্শেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিবারটির দৌরাত্ম্য ও ক্ষমতা অনেকটাই বেড়েছে বলে এখানকার জনগণ মনে করেন ।এমপির বিশেষ প্রিয়ভাজন আরেকজন নেতার যোগসাজশে সরকারি ও আঃ সালাম মুর্শেদীর নিজস্ব অর্থায়নে দেওয়া সকল সুযোগ সুবিধা, বিভিন্ন পদ-পদবী পরিবারটি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।যার সত্যতা সরকার প্রদত্ত ১০০০০ লিটার পানির ট্যাংক ও টিউবওয়েল কারা পেয়েছেন খোঁজ নিলেই মিলবে।এখানে ঐ পরিবারটির বাইরে কারণে নতুন মেধাবী কারো নেতৃত্বে আসার সুযোগ নেই যদিও কেউ নেতৃত্বে এসেই যায় তাদেরকে গ্রামে কোনঠাসা করে রাখা হয় । তাদের সহযোগী অন্যতম ২ জন হাতিয়ারের একজন সাবেক বিএনপি কর্মী সামন্তসেনা আলিয়া মাদ্রাসার নাইটগার্ড তোতলা খলিল যে বিএনপির শাসনআমলে আঃ মজিদ ফকির এর হাত ভেঙ্গে দিয়েছিলো,আরেকজনও সাবেক বিএনপি কর্মী হেলাল ফকির যে তার ভাই মার্ডার মামলায় আঃ মজিদ ফকির, আঃ সালাম ফকিরসহ অনেককেই মিথ্যা মামলার আসামি করে ছিলো। আওয়ামী লীগকে ঐক্য সংহতি সৌহার্দ্য সম্প্রতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন ক্ষমতা পদ-পদবীর বিকেন্দ্রীকরণ ও সরকারি ও আঃ সালাম মুর্শেদীর নিজস্ব অর্থায়নে দেওয়া সুবিধাগুলোর সমবন্টন। সর্বপরি উক্ত পরিবার এবং তাদের প্রিয়ভাজন ২/৩ নেতাকে নিয়ন্ত্রণ/শাসন করা খুবই প্রয়োজন বলে বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী মতামত ব্যক্ত করেন।