
আঃ মান্নান (স্টাফ রিপোর্টার) : রূপসা উপজেলার তালতলা গ্রামের ২৪ প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞ অনুষ্ঠান অত্র অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিবছর তালতলা নাম যজ্ঞ কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বিনয় কৃষ্ণ হালদার পরাজিত হওয়ার পর তার নিজের কাছের মানুষদের নিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী নামযজ্ঞ বন্ধের মিশনে নামে। নামযজ্ঞ কমিটিকে চরম পর্যায়ের অসহযোগিতা গ্রামবাসীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে গ্রামবাসী নির্ধারিত চাঁদা প্রদান না করা এবং অন্যদের নিরুৎসাহিত করাসহ নামযজ্ঞ বন্ধের জন্য নানা যড়যন্ত্রে লিপ্ত । সুত্র জানায় বিনয় মেম্বর প্রায় ২৫ বছরের মত গ্রামের মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে অপশাসন,স্বেচ্ছাচারিতা,স্বজনপ্রীতির সর্বোচ্চ রাজত্ব কায়েম করে। বিনয় হালদার টিএসবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক দুই এমপি-র বিশেষ স্নেহভাজন হিসেবে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠে। তারই ধারাবাহিকতায় নামযজ্ঞ কমিটির সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়ে বছর পর বছর একনায়কতন্ত্র কায়েম করে অনুষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে নির্বাচিত ইউপি সদস্যকে শায়েস্তা ও ব্যর্থ করতে নামযজ্ঞ বন্ধে যড়যন্ত্র শুরু করেন। তারএই মিশন ঐতিহ্যবাহী নামযজ্ঞ বন্ধের বাস্তবায়নের অন্যতম সহোযোগি গ্রামবাসীর কাছে কুটচালের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত বিনয়ের আপন বড়ভাই কমল কৃষ্ণ হালদার।
সূত্র আরও জানায় উল্লেখিত কমল কৃষ্ণ হালদারগংদের ষড়যন্ত্রের মিশন হিসেবে নিজেদের নির্ধারিত চাঁদা না করে নিজের বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে গ্রামবাসীকে তাদের নির্ধারিত চাঁদা প্রদান না করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে অথচ বিনয় সভাপতি থাকাকালীন সময়ে দীপঙ্কর সেন নামের একজন নিরিহ গ্রামবাসী নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধে অপারগ হলে বিনয়ের বাড়ীতে দিনমজুরি করে চাঁদার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। স্বেচ্ছাসেবী শিব সেন জানান গতবছর চাঁদা আদায়ের জন্য বিনয় মেম্বারের বাড়িতে গেলে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং অকথ্য ভাষায় অপমান করা হয়। এ বছরও চাঁদা আদায়ের জন্য গেলে বিনয়ের ছেলে প্রদীপ নির্ধারিত চাঁদা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় এবং গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তকে মানবে না বলে জানান। তাদেরকে গ্রামের মিটিংয়ে তাদের আর্থিক অপারগতার বিষয়টি জানাতে পরামর্শ দিলেও তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।
আরেকটি সূত্র জানায চিহ্নিত ক্রিমিনাল কমল কৃষ্ণ হালদার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। বিনয় এবং কমল উভয়েই ছেলে-মেয়ে ভারতে স্থায়ীভাবে পাঠিয়ে যাবতীয় সম্পদ পাচার করছে বলে জানা যায়।
অপর সূত্র জানায় সাবেক ইউপি মেম্বার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ এবং তার ভাই কমল কৃষ্ণের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। দীর্ঘ ২৫ বছর ইউপি মেম্বার থাকাকালীন সময়ে কথিত বিচার সালিশ-বিচার বসিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনেককে আর্থিক জরিমানা করে নিজেরা বড় একটি অংশ পকেটস্থ করেছে,তাদের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলার সাহস দেখিয়েছে তাদেরকে পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেছে। উল্লেখিত বিনয়-কমলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ারও প্রবণতা দেখা গেছে। সামনে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা নামযজ্ঞ বন্ধ করা সহ প্রতিপক্ষকে বিভিন্ন ভাবে ফাঁসিয়ে হামলা-মামলার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য গতবছরও একই সময় নামযজ্ঞ চলাকালীন সময়ে কৃত্রিম জটিলতা তৈরি করতে সে তার বাড়ির সামনে ডেকোরেটর থেকে চেয়ার ভাড়া করে স্থানীয় বিভিন্ন বখাটেদের বসিয়ে নামযজ্ঞ বন্ধ করার জন্য হুমকি-ধামকি,মহিলাদের উত্যক্ত করা সহ নানান অপ-তৎপরতায় লিপ্ত ছিল। গতবছর তাদের সকল ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করে গ্রামবাসী সফলভাবে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করে।
তালতলা গ্রামের ইউপি সদস্য ও বর্তমান কমিটির সভাপতি রঞ্জু হালদার জানান সনাতনী ধর্মীয় মানুষের আবেগের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি স্বেচ্ছাশ্রমের বিনিময়ে যুগযুগ ধরে পালন করছে। বিনয় মেম্বার গংদের সকল ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করে এবছরও সফলভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ব্যাপারে গ্রামবাসী দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।