
এন এ রবিউল হাসান লিটন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ
পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’। নারী ও পুরুষকে এভাবেই দেখেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বর্তমানে নারীরা কোনো কাজেই পিছিয়ে নেই। তারা তাদের নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঘরে বাইরে সব পেশায় নিজেদের নিয়োজি করছে। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা।
ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল কাজে লাগিয়ে আজকের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে বহুদূর। তেমনি পড়াশোনা শেষ করে চাকুরী নামের সোনার হরিণের পিছনে না ছুটে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কাজী জাকিয়া তামান্না তমা। গোড়ে তুলেছেন বোদা পৌর শহরের এশিয়ান হাইওয়ের পাশে ‘কাজী রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি আধুনিক ও রুচিশীল রেস্টুরেন্ট।
ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজ থেকে মার্কেটিং এ আনার্স ও মাস্টার্স শেষ করা তমা বাবা মায়ের পাঁচ সন্তানের সোবার ছোট। বাবা প্রয়াত কাজী তবারকউল্লাহ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাজির ছিলেন মা ডা. লায়লা খালেদা খানম।
‘কাজী রেস্টুরেন্ট’ এ দেশীয় খাবারের পাশাপাশি বিদেশি স্বাদের খাবারও পাওয়া যায়। বিশেষ করে ভারতীয় খাবার পাওয়া যায়। এরি মধ্য রেস্টুরেন্টটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নিরিবিলি ও কলাহল মুক্ত পরিবেশে রেস্টুরেন্টটি গোড়ে উঠায় মানুষের সমাগম ভালোই লক্ষ্যনিয়। রেস্টুরেন্টটির বিশেষত হলো কয়েক মিনিট সময় দিলে টাটকা খাবার তৈরি করে পরিবেশন করে।
বাঙালীয়ানা ভিন্ন পদের ভর্তা, গোরুর মাংস, মুরগী মাংস, হাঁসের মাংস, ডাল, ভাঁজি দেশীয় খাবারের পাশাপাশি ভারতীয় কচুড়ী, আলুর দোম, শাহী মেজবান কচুড়ী, ধোসা, লুচি তরকারি সল্পমূল্যে পাওয়া যায়।
তমা বলেন, আমি ছোট্ট বেলা থেকে রান্না করতে এবং সবাইকে খাওয়াতে ভালোবাসি। তাই আমি যেটা ভালো পারি সেটা নিয়ে কাজ শুরু করি।
বর্তমানে নারীরা আত্মনির্ভরশীল। আর সেটা প্রমান করার জন্য আমার এই উদ্যোগ। নিজে কিছু করব, আর এ সপ্ন আমার ছোট্ট বেলা থেকেই ছিল।
তিনি আরও বলেন, আমার রেস্টুরেন্টে পাঁচজন নারী কাজ করছে। আমি পাঁচজনের কর্মসংস্থান করতে পেরেছি। আমার মত অনেকে এগিয়ে আসলে অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। দেশে বেকারত্ব কমাতে সাহায্য করবে। আপাতত আমি রেস্টুরেন্টেই খাবার সার্প করছি। ছোটখাটো পার্টি এরেঞ্জ করছি। আমি দেখাতে চাই সল্প মূল্যে বিদেশী ডিস সার্ব করা যায়। আগামীতে আমার রেস্টুরেন্টটির পরিধি বাড়ার পরিকল্পনা আছে। হোম ডেলিভারি করারও পরিকল্পনা আছে। আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সবার ঘরে স্বাস্থ্যসম্মত ফ্রেশ খাবার পৌঁছে দেয়া।
উদ্যোক্তা জীবনে বাঁধা বা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় কোন প্রতিবন্ধকতা এসেছে কিনা জানতে চাইলে তমা জানান, যে কোনো কাজ করতে হলে বাঁধা আসবেই। ঠিক তেমনি আমার বেলায়ও শুরুতে বাঁধা এসেছে। অনেকে চাকুরির দিকে মনোযোগ দেয়ার কথা বলেছে। এ-ও বলেছে আমাদের এদিকে সফল হওয়া যাবেনা। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় আমাদের এদিকে নারীরা সফল না। আমি এটাকে চেলেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি এবং সফল হয়ে দেখিয়েছি। সব কিছুতে পারিবারিক সাপোট খুব বেশি প্রয়োজন। যা আমি পেয়েছি। বিশেষ করে আমার মা আমাকে সাপোট দিয়েছে, এখোন দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভূক্ত শিল্পী কাজী জাকিয়া তামান্না তমা একাধারে আবৃত্তি, আর্ট, নৃত্যকলা ও গানে সমান পারদর্শী। দেশের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন গ্রুপের সংগে সমান ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেশের নারীদের অনুকরণীয় তমা নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে একদিকে আর্থিক স্বাবলম্বী হয়েছেন, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে বেকারত্ব কমাতে অনন্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।