
নড়াইল প্রতিনিধি :
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় নবাগত জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালামের সঙ্গে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও যুব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু রিয়াদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবাগত জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম।
সভায় লোহাগড়া উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সমস্যা, শিক্ষা, কৃষি, যুব উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এই মতবিনিময় সভায় তরুণদের উদ্দেশে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন—
“ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই কিংবা বাইরে থেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা যায়, বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম। তবে আমাদের সবাইকে ইন্টারনেটের খারাপ দিক থেকে বিরত থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, লোহাগড়া উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসন সবসময় জনগণের পাশে থাকবে এবং এলাকার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এ লক্ষ্যে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তব্য দেন লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোছাঃ সাদিয়া সুলতানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুনমুন সাহা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ ও আবুল কাশেম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ টিপু সুলতান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা সেক্রেটারি মোঃ আলমগীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা।
এর আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা প্রশাসন ও জনসাধারণের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।