
মোঃ তৌহিদ হাসান শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। ভালো ফলনের আশায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সঠিক পরিচর্যা, অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত কৃষি পরামর্শে এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি রোগবালাই দমনে মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার মোকামতলা, মহাস্থান, পিরব, কিচক, আটমূল, মাঝিহট্ট ও মধুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ আলুখেত সবুজে সমারোহে ভরে উঠেছে। কোথাও কৃষকরা সেচ দিচ্ছেন, কোথাও আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ কেউ সার ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর গাছের বৃদ্ধি ভালো হচ্ছে এবং ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা।
তবে কৃষকদের মনে এখনো দগদগে ক্ষত হয়ে আছে গত বছরের আলুর বাজার ধসের স্মৃতি। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে অনেক কৃষককে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। তবুও জীবিকার তাগিদে এবং আবারও ভালো ফলনের আশায় তারা আলু চাষে ঝুঁকেছেন।
উপজেলার কিচক ইউনিয়নের কৃষক নুর আলী বলেন, “আমি দশ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। সারের দাম বেশি থাকায় সার কিনতে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন একটাই দুশ্চিন্তা—আলুর দাম শেষ পর্যন্ত কী হয়।” তিনি আরও বলেন, “গত বছর আলুর দাম এতটাই কম ছিল যে খরচই ওঠেনি। তারপরও আশা নিয়ে আবার আবাদ করেছি। এবার যদি দাম ভালো থাকে, তাহলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।”
আটমূল ইউনিয়নের কৃষক মোশাররফ হোসেন বলেন, “এখন পর্যন্ত আলু গাছে তেমন কোনো রোগবালাই দেখা দেয়নি। নিয়মিত ওষুধ দিচ্ছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আলুর ফলন ভালো হবে। তবে শুধু ফলন নয়, ন্যায্যমূল্য পাওয়াটাই কৃষকদের মূল প্রত্যাশা। বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক থাকলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য দাম পাবেন।”
সব মিলিয়ে আবহাওয়া ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে শিবগঞ্জের আলু চাষিরা আবারও স্বস্তি ফিরে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।