মোঃ তহিদুল ইসলাম শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শিবগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ৩৫ টি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ভাটা স্থাপন করা হয়েছে আবাদি জমিতে এবং কিছু ভাটা গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকার পাশেই। এসব ভাটার কারনে কৃষিজমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বায়ুদূষণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী,শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩৭ টি ইট ভাটা রয়েছে এর মধ্যে ২ টি ইট ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈধ ছাড়পত্র আছে।
ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, আবাদি জমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে ভাটায় ১২০ ফুট উঁচু পাকা চিমনি ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সরেজমিনে কালুগাড়ী দাড়িদহের এম.এম.বি বিকস্,দোসীমানা রহবল এলাকার লাবীব এন্ড সাজিদ ব্রিকস্,পাকুরতলা রহবল এলাকায় মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স,আর.এম.এ ব্রিকস,মোকামতলা এলাকায় এম এম সি ব্রিকস এর ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ভাটা পরিচালিত হচ্ছে। কালুগাড়ী দাড়িদহের এম.এম.বি ব্রিকসের পাশের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,ভাটার ধোঁয়ার কারনে কয়েক বছর ধরে গাছে ফল ধরছে না। শিশুদের সর্দি-কাশি লেগেই আছে।ভাটার মালিক প্রভাবশালী হওয়াই ভয়ে কেও প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
পাকুরতলা আর.এম.এ ব্রিকস এর পাশের এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন, ভাটার ধোঁয়া আর ছাইয়ে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আগে জমিতে ভালো ফসল হতো, এখন ফলন কমে গেছে। বাচ্চারা প্রায়ই সর্দি-কাশি আর শ্বাসকষ্টে ভোগে। এই ভিটেমাটি ছেড়ে কোথায় যাব? আমরা শুধু সুস্থভাবে বাঁচতে চাই।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কয়েকটি ইটভাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিভিন্ন দপ্তর ও প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করেই ভাটা চালাতে হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর, বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন,যে সব ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই তাদেরকে ইটভাটা বন্ধ করতে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, খুব শীঘ্রই অবৈধ ইটভাটায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।