এম এইচ মুন্না:
দীর্ঘদিনের দোদুল্যমানতা, দাপ্তরিক ঢিলেমি আর দায়সারা দৃষ্টিভঙ্গির দুষ্টচক্র ভেঙে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এখন স্বচ্ছতার স্রোত, শৃঙ্খলার শক্তি এবং জবাবদিহিতার জাগরণ দৃশ্যমান। কাগুজে কাজের কৃত্রিম কারুকাজ থেকে বেরিয়ে বাস্তব উন্নয়নের দৃঢ় দিগন্তে এগিয়ে যাওয়ার যে দৃশ্যপট তার কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান। তার কৌশলী, কঠোর ও কার্যকর নেতৃত্বে অধিদপ্তরের প্রতিটি স্তরে সৃষ্টি হয়েছে দায়িত্ববোধের নতুন সংজ্ঞা, কাজের নতুন গতি, এবং সততার নতুন সুর।
এক সময় যেখানে ফাইল ঘুরতো ধীর লয়ে, সিদ্ধান্ত নিতো সময়ের স্রোতকে হার মানিয়ে; সেখানে এখন সময়মতো সিদ্ধান্ত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া আর সমন্বিত তদারকির সমাহার। অব্যবস্থাপনার অন্ধকার অধ্যায় থেকে বেরিয়ে এসে এখন প্রতিটি দপ্তরে যেন স্বচ্ছতার স্বাক্ষর, জবাবদিহিতার জোর, এবং কর্মদক্ষতার জয়গান। প্রকৌশলীদের টেবিলে টেবিলে টানানো “নিজের কাজ নিজে করি” এই বাক্যটি যা সচল সংস্কৃতি, সক্রিয় সচেতনতা ও দায়বদ্ধ দর্শন হিসেবে সকলের নজর কেড়েছে।
সূত্রমতে, প্রধান প্রকৌশলী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি দাপ্তরিক দুর্বলতা দূরীকরণ, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং অনিয়ম নিরসনে নিয়েছেন কঠোর ও কৌশলী অবস্থান। তার প্রশাসনিক প্রজ্ঞা ও পেশাগত দৃঢ়তায় এখন কাজের প্রতিটি ধাপে রয়েছে পরিমিত পরিকল্পনা, পর্যালোচনার প্রখরতা এবং ফলাফলের স্পষ্টতা। অনিয়মের অবকাশ রোধে মনিটরিং ব্যবস্থাকে করা হয়েছে আরও মজবুত, আরও কার্যকর, আরও গতিশীল।
ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খান বলেন, “প্রধান প্রকৌশলী স্যারের সুদৃঢ় নেতৃত্বে আমরা এখন একটি স্বচ্ছ, সচল ও সুসংগঠিত কর্মপরিবেশে কাজ করছি। প্রতিটি প্রকৌশলী এখন নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন, নিজের কাজ সম্পর্কে সংবেদনশীল। ‘নিজের কাজ নিজে করি’ এই নীতিটি আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রভাব ফেলছে। এতে কাজের গতি যেমন ত্বরান্বিত হয়েছে, তেমনি গুণগত মানও হয়েছে উন্নত।”
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার হওয়ায় ঠিকাদারদের মধ্যেও এসেছে শৃঙ্খলার স্বরূপ, কাজের মান রক্ষায় বেড়েছে সতর্কতার স্তর। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে আগের সেই গাফিলতি, গড়িমসি আর গড়পড়তা মানের প্রবণতা অনেকটাই কমে এসেছে।
প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন,
“গণপূর্ত অধিদপ্তরকে আমরা একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কাজ করছি। অতীতের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমরা সেগুলোকে অজুহাত না বানিয়ে এখন সমাধানের পথে হাঁটছি। আমি বিশ্বাস করি, দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহিতা এই তিনের সমন্বয়ই একটি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি প্রকৌশলীকে আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, নিজের কাজ নিজে করতে হবে, নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা বা বিলম্ব আমরা বরদাস্ত করবো না। উন্নয়ন মানে শুধু কাজ শেষ করা নয়; উন্নয়ন মানে মানসম্পন্ন, সময়োপযোগী এবং টেকসই কাজ নিশ্চিত করা।” আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়, বরং একটি জবাবদিহিমূলক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং দলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা কাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”