স্টাফ রিপোর্টার শফিকুল ইসলাম সাগর,,,, গত (২৫শে)অক্টোবর সিরাজগঞ্জের আলোক দিয়ার দক্ষিনপাড়া(পূর্বচর) ফুলজোড় নদীর পশ্চিম পাড়ে লিমন হোসেন (২৭) নামের এক কলেজ ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ,দীর্ঘ ১ মাস পার হয়ে গেলেও তার সঠিক তদন্ত এখনোও পাওয়া যায়নি।নিহতের পরিবার এ বিষয়ে সাতজনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ জেলা জজ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,উক্ত মামলার আসামীগণ (১) মোঃ শাহাদত হোসেন (৫৫) (বর্তমান ডাঃ তাছলিমা মতিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক) পিতাঃ মৃত মহির উদ্দীন,(২) সিয়াম হোসেন(২৪) (৩) মোছাঃ সাজিয়া খাতুন (২২) উভয়ের পিতা শাহাদত হোসেন,(৪) মোছাঃ তাহমিনা বেগম (৪৮) জং শাহাদত হোসেন, সর্ব সাং ডুমার ইছা হাটখোলা (৫) মোঃ জাহিদ হাসান (২৬) পিতাঃ মোঃ আব্দুল জলিল (৬) মোঃ আব্দুল জলিল (৫১),(বর্তমান বহুলী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আওয়ামী-লীগের সভাপতি) পিতা মীর বক্স সেখ।(৭) মোঃ তৈয়ব খান(৪৮) পিতাঃ মৃত মহির উদ্দিন খান,সাং ডুমুর বড় বাড়িয়া সিরাজগঞ্জ। (১-৪)নং আসামী পিতা,পুত্র কন্যা ও স্ত্রী সম্পর্ক। (৫-৬) নং আসামী পিতা-পুত্র সম্পর্ক। এবং ৭ নং আসামী শাহাদতের ছোট ভাই।নামিক আসামী পরস্পর ভয়ানক খারাপ সন্ত্রাসী এবং নিষ্ঠুর শ্রেণির লোক। নিহত লিমন হোসেন,আসামী সাজিয়া ও আসামী জাহিদ হাসান পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা এবং সকলেই ডুমুর ইছা হাটখোলায় অবস্থিত ডাঃ তাছলিমা মতিন উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করতো। তখন থেকে নিহত লিমন ও আসামী সাজিয়ার মধ্যে প্রেমের একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরস্পর একে অপরের বাড়ীতে আসা যাওয়া করে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলে তাদের প্রেমের সম্পর্ক,এরপর স্কুল পাশ করে নিহত লিমন ভর্তি হয় সিরাজগঞ্জ সরকারী ডিগ্রি কলেজে এবং আসামী সাজিয়া ভর্তি হয় ঢাকায় এবং সেখানে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারে,তাদের মধ্যে মোবাইলে, ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক চলতেই থাকে। এবং তারা একে অপরে বিবাহের সিদ্ধান্ত নিলে বিষয়টি মোঃ শাহাদত হোসেন, সিয়াম হোসেন ,মোছাঃ তাহমিনা বেগম (সাজিয়ার বাবা,মা,ভাই) জানতে পারেন এবং সাজিয়ার উপর চাপ প্রয়োগ করেন লিমনকে ভুলে যেতে তাৎক্ষনিক জাহিদ হাসানের সহিত বিবাহ ঠিক করেন। লিমন এবং সাজিয়ার সম্পর্কের কথা সাজিয়ার মা,বাবা এবং ভাই তাদের ঘটনাটি মোঃ আব্দুল জলিলকে অবগত করেন। এরপর গত (২৫শে অক্টোবর) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭ টা ৪৫ মিনিটে সিয়াম (সাজিয়ার ভাই) ও জাহিদ ,লিমনের বাড়ী আসে ,তখন বাড়ীতে লিমন ও তার মা ছিলেন,জাহিদ এবং সিয়াম লিমনকে বলে,রাস্তায় সাজিয়ার মা,বাবা দাঁড়িয়ে আছেন তোমার সাথে কথা বলার জন্য,এই বলে লিমনকে নিয়ে তার বাড়ী থেকে বের হয়,রাত ১০ টা পার হলেও লিমন বাড়ী আসে না,এজন্য লিমনের মা গ্রামের আশে-পাশে খুঁজতে শুরু করে।গ্রামবাসীর কিছু লোকজন লিমনের মাকে বলে,লিমন কে তো সিয়াম আর জাহিদের সাথে যেতে দেখলাম,অনেক খোজাখুজি করেন লিমনের মা কিন্তু কোথাও ছেলেকে খুঁজে পান না। পরে এক মহিলা ও এক জেলে ফুলজোড়া নদীর চরে একটি লাশ দেখতে পান এবং হাক-ডাক শুরু করেন,এবং তাদের শোর-গোলের কারণে সেখানে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে এবং তাদের মধ্যে একজন ৯৯৯ কল করে ঘটনাটি জানায়,এবং ঘটনাস্থলে ঐ সময় উপস্থিত হন অত্র এলাকার মেম্বার মামুন। তিনি লিমনকে চিনতে পেরে লিমনের মাকে ফোন দেন এবং বলেন,চাচী লিমন কোথায়? সেকি বাসায় আছে? লিমনের মা উওর দেয়,সন্ধ্যার পর লিমনকে সিয়াম ও জাহিদ ডেকে নিয়ে যায়,এরপর আর খুজে পাচ্ছি না,
পরে মামুন মেম্বার জানায়,এখানে লিমনের লাশ পড়ে আছে,আপনারা ফুলজোড়া নদীর চরে চলে আসুন। পরে লিমনের মা ও ভাই এবং গ্রামের কিছু মানুষ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন লিমন বালির মধ্যে মৃতঅবস্থায় পরে আছে। মুহুর্তের মধ্যে ঐখানকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তাদের আহাজারিতে। ৯৯৯ এ কল দেওয়ার প্রায় ৪৫ মিনিট পর ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং লাশটি সংলঙ্গা থানায় নিয়ে যায়। এসময় লিমনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মানিব্যাগ যাতে ছিল মাত্র ৭০ টাকা,একটি হাতঘড়ি এবং একটি মোবাইল ফোন। থানায় লিমনের মা বার বার বলেন আমার ছেলেকে সিয়াম ও জাহিদ সন্ধ্যাবেলা ডেকে নিয়ে ছিল,তারপর আর বাড়ি ফেরেনি,ওদেরকে ধরুন,তাহলে সব সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে। কিন্তু নিহত লিমনের মা দাবী করে বলেন পুলিশ আমার কোন কথাই শোনেনি, কোন প্রকার পরিক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আতœহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেন (কথিত উল্লেখ যে,ঘটনাটি ঘটেছে নিহত লিমনের বাসা থেকে প্রায় ১০/১১ কিঃমিঃ দুরে চর এলাকায়)
এবং জোর করে কাগজে টিপ সই নিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা (২৫/২৩) রুজু করেন নিজেরাই এবং লাশটি আমাদের দিয়ে দেন। এবং ঘটনার পরের দিন (২৬ শে অক্টোবর,বৃহস্পতিবার) আমাদের লাশ দাফন করতে বলেন। লিমনের মা আরও বলেন আমি আমার ছেলের ঘড়ি,মানিব্যাগ ও ফোন ফেরত চাইলে ঐ(সলংঙ্গা) থানার এস.আই লতিফ বলেন,ওসব এখন দেওয়া যাবে না,ওগুলো তদন্তের কাজে লাগবে, পরে এসে নিয়ে যাবেন। এবং আসার সময় আমাকে ফোন দিয়ে থানায় আসবেন । বেশ কয়েক দিন পর পর তাকে ফোন দিয়ে জিনিসগুলো ফেরত চাইলে তিনি বলতেন আজকে অবরোধ,অমুকদিন হরতাল বলে তালবাহানা করতেন।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়,নিহত লিমন এবং সাজিয়ার প্রেমের সম্পর্ক সবাই জানে,এটা র্দীঘদিন ধরে চলে আসছিল।এবং বিষয়টি তার পরিবারের সকলেই জানতো। এবং মাঝে মাঝে নিহত লিমনকে অনেক হুমকিও দিত এবং কয়েকবার মারধরের ঘটনাও ঘটেছে কিন্ত শাহাদত হোসেনের প্রচুর টাকা ও ক্ষমতা,তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলে না। কারণ তার সাথে বিবাদ করা মানে জলে বাস করে কুমিরের সাথে ঝগড়া করার মত,এবং এলাকায় তার অনেক পাতি মাস্তান ও সিআইডি রয়েছে যারা এলাকার সকল তথ্য তাকে দেয়। লিমন এবং সাজিয়ার সম্পর্কটা গড়ে ওঠেছিল শাহাদত হোসেনের কথাতেই,যখন লিমন ও সাজিয়া ডাঃ তাছলিমা মতিন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো তখন সাজিয়ার বাবা শাহাদৎ হোসেন তার স্কুলে ক্লাস নেওয়ার সময় বলেছিলেন,যে ভালোপড়াশোনা করবে তাকে আমার মেয়ের জামাই বানাবো,কথাটি লিমনের মনে গেধে যায় এবং লিমন মন দিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। এভাবেই ওদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবং বিষয়টি এলাকার ছোট বড় সবাই জানে।