1. info@dainikgonatadanta.com : দৈনিক গণতদন্ত :
শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞাপন:
জরুরী নিয়োগ চলছে, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় প্রতিনিধি, জেলা,উপজেলা, স্টাফ রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস ও বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি বা সাংবাদিক নিয়োগ চলছে।

৬ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এক নির্বাহী প্রকৌশলী বরখাস্ত, অথচ একই অভিযোগে বহাল তবিয়তে সিলেট গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদ!

রিপোর্টারের নাম :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৯ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের দৃশ্যমান অবস্থানের মধ্যে একদিকে যেখানে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, ঠিক তখনই একই প্রকৃতির, বরং আরও ভয়াবহ অভিযোগে অভিযুক্ত সিলেট গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না থাকায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইলিয়াস আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য, ঠিকাদার সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

সূত্র মতে, ফ্যাসিবাদী সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক শক্তি ধরে রাখার অন্যতম নীরব সহযোগী হিসেবে পরিচিত ইলিয়াস আহম্মেদ ঢাকায় প্রায় এক যুগ দায়িত্ব পালনের পর ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনের পর সিলেটে বদলি হন। তার কর্মজীবনের ট্র্যাক রেকর্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২২ এপ্রিল ২০১৫ সালে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২,

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ নড়াইল গণপূর্ত বিভাগ,

১৮ জানুয়ারি ২০১৭ আবারও ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২,

১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগ এবং

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে সিলেট গণপূর্ত সার্কেলে যোগদান করেন।

এই দীর্ঘ সময়জুড়ে তিনি আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীম সংশ্লিষ্টতা থেকে শুরু করে একের পর এক বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন পিলখানা উপ-বিভাগে শিশু জিহাদ মৃত্যুর ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারকে নগদ অর্থ দিয়ে এবং তার ভাইকে পিয়নের চাকরি দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।

 

একাধিক সূত্র দাবি করেছে, আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ করে দেন ইলিয়াস আহম্মেদ। এমনকি জনৈক ঠিকাদার পল্টন দাসের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। নিজের আপন ভাইকে ঠিকাদারি পেশায় নামিয়ে গণপূর্তের কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন বাণিজ্য চালানোর তথ্যও সামনে এসেছে। এসব অবৈধ আয়ের অর্থে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডিতে দুটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট, বরিশালে নিজ এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মসজিদ এবং বিদেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দোতলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র আরও দাবি করেছে, তিনি রাজধানীর অভিজাত হোটেলগুলোতে নিয়মিত ঠিকাদারদের নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন, মদ ও নারীতে আসক্ত থাকতেন। একইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অর্থায়ন ও সহিংসতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে মো. সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়, সেখানে একই দোষে অভিযুক্ত, বরং আরও গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ইলিয়াস আহম্মেদ কীভাবে এখনো সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকেন? তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার হয়েছে কি না, অবৈধ সম্পদের উৎস কী? এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এ বিষয়ে ইলিয়াস আহম্মেদের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট