মোঃ তহিদুল ইসলাম শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:
একসময় যার হাসিতে মুখর থাকতো পুরো পরিবার, আজ সেই শাহিনের প্রতিটি নিঃশ্বাস কাটছে মৃত্যুভয়ে। পেটের ক্ষুধা আছে, কিন্তু তৃপ্তি মেটানোর সাধ্য নেই। কারণ, এক লোকমা খাবার মানেই তার কাছে নরকসম যন্ত্রণা। খাদ্যনালী সরু হয়ে যাওয়ায় গত চার বছর ধরে এভাবেই তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন শিবগঞ্জের তরুণ শাহিন। অথচ মাত্র ৬ লাখ টাকা হলে আবারও ফিরে পেতে পারেন সুস্থ জীবন।
এক যন্ত্রণাময় বেঁচে থাকা
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের দিনমজুর নুর ইসলামের ছেলে শাহিন। ২০২২ সাল থেকে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার খাদ্যনালী অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে, ফলে স্বাভাবিক খাবার গ্রহণ প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে তরল খাবার খেয়ে কোনোমতে প্রাণ টিকিয়ে রেখেছেন তিনি। অভাবের সংসারে একদিকে ক্ষুধার জ্বালা, অন্যদিকে রোগের যন্ত্রণা—সব মিলিয়ে শাহিনের জীবন আজ থমকে গেছে।
অভাবের কাছে পরাজিত স্বপ্ন
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন শাহিন। আজ তিনি নিজেই বিছানায় শয্যাশায়ী। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় সহায়-সম্বল যা ছিল সব শেষ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা প্রয়োজন, যার জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। কিন্তু দিনমজুর পিতার পক্ষে এই বিশাল অংকের টাকা জোগাড় করা যেন আকাশকুসুম কল্পনা।
শাহিন অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন,
"আমি মরতে চাই না, আমি বাঁচতে চাই। প্রতিবার যখন খাবার মুখে নেই, মনে হয় গলার ভেতর কেউ যেন ব্লেড চালাচ্ছে। ডাক্তার বলেছেন অপারেশন করলে আমি ঠিক হয়ে যাবো। মানুষের সাহায্যে দেড় লাখ টাকা পেয়েছি, আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা হলে আমি অপারেশন করতে পারবো। দয়া করে আমাকে বাঁচান।"
মানবিক সাহায্যের আকুতি
শাহিনের জীর্ণশীর্ণ শরীর আর চোখের জল দেখে প্রতিবেশীদের মনেও বইছে কষ্টের ঢেউ। তারা বলছেন, টাকার অভাবে কি একটি তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাবে? এলাকাবাসী ও শাহিনের পরিবার সমাজের বিত্তবান মানুষ, দানশীল ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য বিনীত আবেদন জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এএসএম রুহুল আমিন জানান, এই ধরনের দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি সাহায্যের সুযোগ রয়েছে, তবে নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালার আওতায় তাকে আবেদন করতে হবে। কিন্তু শাহিনের হাতে সময় খুব কম।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা:
(বিকাশ/নগদ 01356016506)
আপনার সামান্য অনুদান হয়তো শাহিনকে ফিরিয়ে দিতে পারে তার শৈশব-কৈশোরের সেই হাসি। আসুন, একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসি।