নিজস্ব সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পারখী ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ বাজারে গোল্ড(স্বর্ণ) ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বেড়িয়ে আসছে আরোও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আউলিয়াবাদ কলেজ মার্কেটে গোল্ড (স্বর্ণ) ব্যবসার আড়ালে জনৈক পরিক্ষিত রাজবংশী নাম জনৈক ব্যক্তি মাদকের বড়বড় চালান (ইয়াবা,গাঁজা,এমনকি দেশীয় চুলাই বাংলা মদ ) এনে তার বিশ্বস্ত এজেন্টদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছেন এবং ওইসব এলাকার মাদকসেবীরাই বিক্রেতা হিসাবে খুচরা বিক্রি করছেন।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমাদের প্রতিনিধি জানতে পেরেছেন যে,পরিক্ষিত রাজবংশী তার মাদক ব্যবসার অভয়ারণ্য হিসাবে স্থানীয় আলাউদ্দিন সিদ্দিকী কলেজ বাউন্ডারীর ভিতরে সুরক্ষিত "কলেজ পুকুর"সাবলীজ নিয়ে মৎসচাষের আড়ালে দৃষ্টিনন্দন পুকুর ঘাটকে মাদকের আখড়া হিসাবে ব্যবহার করছেন। সেখানে পরিক্ষিতের বিশ্বস্ত কর্মচারী আনন্দ সকলের চোঁখ ফাকি দিয়ে রাতের আধারে নিয়মিত মাদকের হাট ও মাদক সেবিদের আখড়া হিসাবে ব্যবহর করছেন।সেখানে কলেজের নিরাপত্তারক্ষীদের ম্যানেজ করেই নির্ভিগ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় জনৈক ব্যক্তি জানিয়েছেন।
এছাড়াও পরিক্ষিতের বসবাসের নিজ বাড়ী সংলগ্ন নির্জন স্থানেও নিজেই মাদকের অপর একটি আস্তানা গড়ে তুলেছেন।
একসময়ের দীনহীন মাছ বিক্রেতার পুত্র মাদক ব্যবসা করে স্বল্প সময়ে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন। এছাড়াও তার বিরোদ্ধে সোনা চোরাচালানীর সাথে যুক্ত থাকারও অভিযোগ আছে। কথিত আছে একাধিকবার তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করলেও সাবেক এমপি হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারীর মধ্যস্থতা ও বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ছাড় পায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
পরিক্ষিত মহাজনী সুদের ব্যবসার সাথেও যুক্ত আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্বর্ণের গহনা বন্ধক রেখে সুদে টাকার ব্যবসা করে স্থানীয় অনেকের সাথেই প্রতারণা করে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের গহনা আত্মসাৎ করেছেন বলেও একাধিক অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি গণমাধ্যে ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় অনেক ভুক্তভোগীই গহনা বন্ধক দিয়ে তাদের সাথে নানা কৌশলে প্রতারণা করেছেন বলে জানিয়েছেন,পার্শবর্তী জোয়াইর গ্রামের কায়ছার,খালুয়াবাড়ীর মনির,আউলিয়াবাদ মাঝিপাড়ার সুরেশ, নিশি,কার্তিক বংশীধর প্রমূখ।
জোয়াইর গ্রামের কায়ছার ৩ ভরিস্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে পরিক্ষিতের কাছে ১ লাখ টাকা প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা সুদ হারে নিয়েছিল, এবং নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধ করলেও কোন একসময় সমুদয় টাকা পরিশোধ করার জন্য গেলে পরিক্ষিত জানায় দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ায় সে কায়ছারের বন্ধকী স্বর্ণের গহনা গালিয়ে ফেলেছেন। তাই তা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
কায়ছার প্রতিকারের জন্য দ্বারেদ্বারে ঘুরেও কোন প্রতিকার পায়নি বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন।
সুরেশ ১ ভরি গহনা বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা একই সুদহারে নিয়েছিল তার গহনাও ফেরত দেওয়া হয় নাই বলে জানিয়েছেন।
কার্তিক রাজবংশী সাড়ে তিন ভরি গহনা বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন তার গহনাও আত্মসাত করা হয়েছে বলে তিনি আক্ষেপ করেছেন।
নিশি মাঝি আড়াই ভরি গহনা বন্ধক রেখে সুদে টাকা নিয়েছিল ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। সে নিয়মিত সুদের টাকা পরিশোধ করে আসছিলেন,কিন্ত হঠাৎ দুই তিনমাস সুদ পরিশোধ না করায় পরবর্তীতে একসাথে সুদসহ আসল টাকা পরিশোধ করতে গেলে তাকেও একই কায়দায় জানিয়ে দেওয়া হয় গহনা গালিয়ে ফেলা হয়েছে, তাই ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। নিশি বিষয়টি এলাকার মানুষকে জানানোর ফলে পরিক্ষিত নিশিকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
খালুয়াবাড়ীর মনির পরিক্ষিতকে চুরি ভেঙ্গে পুনরায় তৈরি করতে দিলে সেখান থেকে স্বর্ণ চুরি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
এছাড়াও বল্লা,খালুয়াবাড়ী,ধানগড়া,লস্করপুর,আওলাতৈল, সরাই,মরিচা , পাইকপাড়া, নাগবাড়ী,টেবী,আটাবাড়ীর বহু মহিলা ও পুরুষ মানুষের সাথে গহনা নিয়ে প্রতারণা করে তাদের স্বর্ণালংকার আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিক্ষিতের অবৈধ মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালানী সোনা বন্ধকী সুদের নামে নিরীহ মানুষের সাথে প্রতারণা করে পারপেতে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীরা ঢাল হিসাবে কাজ করছেন বলেও জনশ্রুতি আছে।
এ বিষয়ে পরিক্ষিতের কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে কালিহাতী থানারএঅফিসার ইনজার্চ জে ও এম তৌফিক আজমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন মাদকের বিরুদ্ধো পুলিশের জিরো ট্রলারেন্স। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্হা নেওয়া হবে।
পরিক্ষিতের অবৈধ মাদক ব্যবসা , সোনা চোরাচালানী ও সোনাবন্ধক রেখে প্রতারণা বন্ধে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।