আঃ মান্নান (স্টাফ রিপোর্টার) : খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাত বলেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃষিজ্ঞান ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর। তিনি জমিতে কীভাবে আধুনিক কৃষিপদ্ধতি প্রয়োগ করে উৎপাদন বাড়ানো যায় এ বিষয়ে বাস্তবমুখী ও মানবিক চিন্তা ধারণ করতেন। তাঁর কৃষি দর্শন ছিল প্রকৃতি, মানুষ ও অর্থনীতির সমন্বিত উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি। রবীন্দ্রনাথ কেবল সাহিত্যিক নন বরং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ভাবনারও একজন পথপ্রদর্শক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৃষিকে শুধু জীবিকার মাধ্যম হিসেবে দেখেননি বরং এটিকে সামাজিক উন্নয়ন,দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবকল্যাণের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি মনে করতেন কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন ছাড়া কোনো জাতির সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ এবং কৃষি শিক্ষার বিস্তারকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর চিন্তাধারা আজও আমাদের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পথনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও বলেন বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রবীন্দ্রনাথের কৃষি দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কৃষকের জ্ঞান,প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সমন্বয় ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে কৃষিকে কেবল উৎপাদনের খাত হিসেবে না দেখে একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন কৃষকের প্রতি সম্মান, তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তর করাই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য। রবীন্দ্রনাথের দর্শন আমাদের সেই দিকেই এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি আজ ১০-ই মে(রবিবার) বিকালে রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মিজ কানিজ ফাতেমা লিজা।
স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মাধ্যমিক ও শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনিস আর রেজা। তিনি বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পারিবারিক ভূ-সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সময় থেকেই তিনি প্রচলিত জমিদারি মানসিকতা থেকে সরে এসে নতুন চিন্তার পথে অগ্রসর হন। তিনি জমিদারির ক্ষমতাকেন্দ্রিক ধারা অনুসরণ না করে নিজেকে সাধারণ মানুষের কাতারে স্থাপন করেন। কৃষকের জীবন, কৃষি অর্থনীতি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন তাঁর চিন্তায় গভীরভাবে প্রভাব ফেলে, যার মধ্য দিয়েই তাঁর কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন ভাবনার সূচনা ঘটে।
তিনি বলেন রবীন্দ্রনাথ পৈতৃক সম্পত্তিকে কেবল ভোগের মাধ্যম হিসেবে না দেখে কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর লেখনী ও কর্মে কৃষি শিক্ষার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামীম।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক মীর,খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬তম বংশধর মানিক লাল কুশারীর সহধর্মিণী ছায়া রানী কুশারী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাহীন আবরার হিমেল, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মোহাম্মদ রহমত উল্যাহ, রাফসান যানি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রূপসা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, একাডেমিক সুপার ভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষি কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা, প্রকৌশলী শোভন সরকার, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ বোরহানউদ্দিন, রূপসা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমির মাওলানা লবিবুল ইসলাম, প্রকৌশলী সুখেন রায়, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, সরোজ কুমার হালদার,এ্যাডঃ সুশীল পাল, সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত মহলী,খুলনা জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজিমুদ্দিন, রবী ঠাকুরের বংশধর গোপাল কুশারী,জামায়াতে ইসলামী নেতা হাফেজ মাওঃ জাহাঙ্গীর ফকির প্রমূখ।